ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠকে ইরান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে যে, সামরিক হামলা বা বিজ্ঞানী হত্যার মাধ্যমে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব নয়। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তেহরান এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি কেবল কোনো ভৌত অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত জ্ঞান, দৃঢ় সংকল্প এবং বিশেষায়িত মানবসম্পদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বিজ্ঞান যখন মানুষের মধ্যে শিকড় গাড়ে, তখন তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে, যা কোনো শক্তির পক্ষেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য আগ্রাসনের ফলে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে না দিলেও ইরান জোর দিয়ে বলেছে, এই অর্জন কোনো সাময়িক প্রচেষ্টা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও নিজস্ব অবকাঠামো উন্নয়নের একটি টেকসই ফসল।
এছাড়াও তেহরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। কৃষি উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা, খাদ্য সংরক্ষণ, চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার এবং শিল্প খাতে বিকিরণ প্রযুক্তির মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক খাতে এই সক্ষমতা নিয়মিত কাজে লাগানো হচ্ছে।