পটুয়াখালীর দশমিনায় নদীভাঙনের কবলে পড়ে বসতঘর সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাবার ও দাদির কবর থেকে কঙ্কাল উত্তোলন করে অন্যত্র দাফন করেছেন নিজাম মৃধা। এছাড়া ঘর সরিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
উপজেলার হাজার হাট বাজারের উত্তর পাশে চৌকিদার বাড়ির দরজা থেকে হাজির হাট মসজিদ পর্যন্ত এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচটি পরিবার ঘর সরিয়ে নিয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও দুই শতাধিক পরিবার।
নিজাম মৃধার বাবা খলিল মির্ধা ১৩ মাস আগে এবং দাদি মায়া জান বিবি ১১ বছর আগে মারা যান। তাদের কবর ছিল ভাঙনকবলিত এলাকায়।
নিজাম মৃধা বলেন, নদীভাঙনের কারণে আমার বাবা ও দাদির কবরও ঝুঁকিতে পড়ে। তাই কবর থেকে কঙ্কাল উত্তোলন করে অন্যের জায়গায় দাফন করতে হয়েছে। আজ ঘরও সরিয়ে নিয়েছি। এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি।
আরও পড়ুন
‘আমাকে খুঁজেও কোনো লাভ হবে না’
স্থানীয়রা বলেন, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও বাবা-দাদাদের কবরসহ গ্রামের দুই শতাধিকের বেশি পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপজেলা পরিষদের কয়েকটি কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাদের জমি ভেঙে গেছে, তারা চাইলে সরকারি খাসজমি বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মাহমুদ হাসান রায়হান/এনএইচআর