সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেল
আজ ১০ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। ২০০৩ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির জন্য দিবসটি পালন করা হয়। আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা (আইএএসপি), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ যৌথভাবে এই দিবসটি পালন করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে বিশ্বে একজন মানুষ আত্মহত্যা করেন। প্রতি বছর প্রায় ৭ লক্ষাধিক মানুষ আত্মহত্যা করেন এবং এর ৭৫ শতাংশের বেশি ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে। বাংলাদেশে আত্মহত্যা একটি নীরব মহামারি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে করোনায় মারা যান ৫ হাজার ২ জন, অথচ একই সময়ে আত্মহত্যায় মারা যান প্রায় ১১ হাজার মানুষ। অর্থাৎ করোনার চেয়ে দ্বিগুণ মানুষ আত্মহত্যায় মারা গেছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ১১ হাজারের বেশি, ২০১৭ সালে ১১ হাজার ৯৫ জন, ২০১৬ সালে ১০ হাজার ৬০০ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। গড়ে প্রতিদিন ৩০ জন।
আরও পড়ুন
অক্ষরজ্ঞান থেকে সক্ষম নাগরিকত্ব হোক সাক্ষরতা দিবসের অঙ্গীকার
কেন মানুষ এই পথ বেছে নেয়?
পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অর্থনৈতিক দৈন্যতা, চরম হতাশা থেকেই নেতিবাচক চিন্তার জন্ম। এছাড়া মাদকাসক্তি, দাম্পত্য কলহ, যৌন নির্যাতন, প্রেমে ব্যর্থতা, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল, অফিসের কাজের চাপ, প্রতারণার শিকার হওয়া থেকেও মানুষ এই ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত বিষণ্নতা একটি রোগ, মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তন থেকে এটি হয় এবং সঠিক চিকিৎসায় এটি পুরোপুরি সারানো সম্ভব।
এবারের প্রতিপাদ্য
আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা (আইএএসপি) ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত থিম নির্ধারণ করেছে ‘চেঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড’ অর্থাৎ ‘আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলাই’। এর আগে ২০২১-২০২৩ সালের থিম ছিল ‘ক্রিয়েটিং হোপ থ্রো অ্যাকশন’ কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করা।
আমাদের করণীয়
আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। এ নিয়ে কথা বলতে হবে, লুকিয়ে রাখা যাবে না।
কেউ হতাশায় ভুগলে তাকে ‘নাটক করছে’ বলে অবহেলা না করে মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
পরিবারে সন্তানদের শারীরিক ও মানসিক চাপ মোকাবিলায় ধৈর্য ও সহনশীলতার শিক্ষা দিন।
স্কুল-কলেজে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও কাউন্সেলিং চালু করতে হবে।
গণমাধ্যমকে আত্মহত্যার খবর প্রচারে দায়িত্বশীল ও কৌশলী হতে হবে, যাতে এটি অন্যকে প্ররোচিত না করে।
আরও পড়ুন
বিশ্ব ডুচেন সচেতনতা দিবস / যে রোগটি শিশুর পায়ের শক্তি কেড়ে নেয়
জীবন একটাই। বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় উৎসব। আপনার পাশের মানুষটি চুপচাপ হয়ে গেলে, গুটিয়ে গেলে একবার জিজ্ঞেস করুন ‘তুমি কেমন আছো?’
মনে রাখবেন, কথা বললে মুক্তি মেলে। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ মানসিক কষ্টে থাকলে কথা বলুন: জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হেল্পলাইন-১৬২৬৩, কান পেতে রই-০৯৬১১৮৫৪৮৮৮।
লেখক: পরিবেশ ও গণমাধ্যম কর্মী, আগৈলঝাড়া, বরিশাল।
কেএসকে