বর্তমানে লোডশেডিং এর সমস্যা বেড়েই যাচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ ফেরার অপেক্ষায় না থেকে অনেকেই জেনারেটর চালিয়ে ঘর, দোকান বা অফিসের প্রয়োজনীয় যন্ত্র সচল রাখছেন। কিন্তু সঠিক নিয়ম না মেনে জেনারেটর ব্যবহার করলে আগুন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এমনকি বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইডে মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালানোর পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।
চলুন লোডশেডিংয়ে জেনারেটরের ব্যবহারে বিপদ এড়াতে যেসব সতর্কতা মানবেন জেনে নিন-
জেনারেটর ঘরের ভেতর নয়, বাইরে রাখুন
জেনারেটর ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো এটি কখনোই ঘরের ভেতর, গ্যারেজ, বেসমেন্ট, সিঁড়িঘর বা অন্য কোনো আবদ্ধ জায়গায় চালানো যাবে না। দরজা-জানালা খোলা রাখলেও ঝুঁকি দূর হয় না। জেনারেটরের ধোঁয়ায় থাকা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস বর্ণহীন ও গন্ধহীন; ফলে বিপদ বুঝে ওঠার আগেই শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে।
জেনারেটর খোলা জায়গায় ভবন থেকে অন্তত ২০ ফুট বা প্রায় ৬ মিটার দূরে রাখার পরামর্শ দেয় মার্কিন কাস্টমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন (সিপিএসসি)। এর ধোঁয়ার মুখও জানালা, দরজা ও বাতাস চলাচলের পথ থেকে বিপরীত দিকে রাখতে হবে।
আরও পড়ুন
বারবার লোডশেডিং, তবু বিদ্যুৎ বিল বেশি? যেভাবে খরচ কমাবেন
আগুন এড়াতে জ্বালানিতে সতর্কতা
জেনারেটরের আশপাশে পেট্রল, ডিজেল, কাগজ, কাপড়, প্লাস্টিক বা অন্য দাহ্য জিনিস রাখা ঠিক নয়। জ্বালানি ভরার সময় জেনারেটর অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে। চালু থাকা বা গরম ইঞ্জিনে কখনোই তেল বা জ্বালানি ঢালা উচিত নয়। এনএফপিএ-ও জ্বালানি দেওয়ার আগে জেনারেটর বন্ধ করে ঠান্ডা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে বলেছে। জ্বালানি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত কনটেইনার ব্যবহার করা জরুরি। বসতঘরের ভেতর বা আগুনের উৎসের কাছাকাছি জ্বালানি রাখা বিপজ্জনক।
ভেজা জায়গায় জেনারেটর চালাবেন না
বৃষ্টি বা ভেজা জায়গায় জেনারেটর চালালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুকনো ও সমতল জায়গায় জেনারেটর রাখতে হবে। বৃষ্টির মধ্যে চালানোর প্রয়োজন হলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে।
অতিরিক্ত লোড দেবেন না
একসঙ্গে অনেক বেশি বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানোর চেষ্টা করলে জেনারেটরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। ফলে তার, প্লাগ বা যন্ত্রাংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জেনারেটরের নির্ধারিত ক্ষমতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যন্ত্র চালানো উচিত। বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনে সরাসরি জেনারেটর সংযোগ দেওয়াও বিপজ্জনক। এ ধরনের সংযোগের প্রয়োজন হলে যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ানের মাধ্যমে উপযুক্ত ট্রান্সফার সুইচ বসাতে হবে।
আরও পড়ুন
এসির চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ বিল বাড়ায় ঘরের যেসব গ্যাজেট
নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ
জরুরি সময়ে চালু করতে গিয়ে সমস্যা এড়াতে জেনারেটর নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা দরকার। তেল, তার, প্লাগ, সংযোগ এবং অন্যান্য অংশে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে নিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে দক্ষ মেকানিকের সাহায্য নেওয়া ভালো।
বাড়িতে স্মোক অ্যালার্ম ও কার্বন মনোক্সাইড অ্যালার্ম থাকলে ঝুঁকি সম্পর্কে দ্রুত সতর্ক হওয়া যায়। অ্যালার্ম বাজলে বা জেনারেটরের কারণে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, বমি বমি ভাব বা বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত খোলা বাতাসে যেতে হবে।
লোডশেডিং যত দীর্ঘই হোক, কয়েক ঘণ্টার বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য জীবন ও সম্পত্তিকে ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়। জেনারেটর ব্যবহারের আগে নিরাপদ জায়গা, সঠিক সংযোগ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ এই চারটি বিষয় নিশ্চিত করলেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কেএসকে