নাটোরের বড়াইগ্রামে একটি ঘরে বসে কয়েকজন তরুণের রামদা, ছুরি ও ধারালো অস্ত্রে শান (ধারালো করা) দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য এক প্রার্থী ও তার অনুসারীদের দেখা গেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের খাটের ওপর বসে কয়েকজন তরুণ রামদা সিরিশ কাগজ দিয়ে ঘষে ধার দিচ্ছেন। পাশেই আরেকজন বড় একটি ছুরি শান দিচ্ছেন। ঘরের ভেতরে কয়েকটি হকস্টিকও পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওতে ধারালো অস্ত্রে ঘষা দেওয়ার শব্দের পাশাপাশি একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ঘষাঘষি কিসের?’
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বড়াইগ্রামের ৩ নম্বর জুনাইল ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী সাব্বাব হক (সাবু)। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও দলটির কোনো পদে নেই। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করছেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল কাদের মিয়া বলেন, সাব্বাব হক চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশা করছেন। তবে তার দলের কোনো পদ-পদবি নেই। ভিডিওটি তিনিও দেখেছেন বলে জানান।
আরও পড়ুন
কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে হাঁটানোর ভিডিও ভাইরাল, গ্রেফতার ৩
স্থানীয় লোকজনের দাবি, ভিডিওতে থাকা অন্য তরুণরাও সাব্বাব হকের অনুসারী। তাদের মধ্যে বড়াইগ্রামের কুমারখালী গ্রামের মাহফুজ আলম, চৌমুহন গ্রামের রাহিম হোসেন ও সোহান হোসেন এবং পাবনার চাটমোহর উপজেলার সন্ধবা গ্রামের কিরণ হোসেন রয়েছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্নজন নানা মন্তব্য করছেন। নাটোর-৪ আসনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘অস্ত্র কাকে হত্যা করার জন্য তৈরি হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভিডিওটি নজরে এসেছে। ভিডিওতে থাকা সাব্বাবের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে। অন্যদেরও শনাক্তের কাজ চলছে। দ্রুত এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ভিডিওতে রামদা ও ছুরি ধার দেওয়ার বিষয়ে জানতে সাব্বাব হকের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
রেজাউল করিম রেজা/এসআর/জেআইএম