দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন চলছেই। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারও (১০ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম। এতে প্রায় তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে ডিএসইর প্রধান সূচক।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় রয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে বাজারটিতেও মূল্যসূচক কমেছে। সেই সঙ্গে সিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। সিএসইতে লেনদেন কমলেও ডিএসইতে বেড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের শেয়ারবাজারে মন্দা চললেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে।
দীর্ঘ মন্দার প্রভাবে চলতি বছরের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৯১০ পয়েন্টে যায়, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে একপর্যায়ে সূচকটি ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টের ওপরে উঠে আসে। এতে দীর্ঘদিন ধরে বহন করা বিনিয়োগকারীদের বড় লোকসান কিছুটা কমে আসে।
তবে সম্প্রতি আবারও বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে পতনের মধ্যে রয়েছে শেয়ারবাজার। ফলে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা আবারও ভারী হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা মন্দা প্রবণতা বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের প্রথম তিন ঘণ্টা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে পতন কেটে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে এমন প্রত্যাশা করতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা।
অবশ্য বিনিয়োগকারীদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শেষ আধাঘণ্টায় বাজারে এক প্রকার ঢালাও দরপতন হয়। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্য কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলে ১০৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৫৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০৭টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৬৫টির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৮টির এবং ৩১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ৩২টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১টির দাম কমেছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে সূচকটি চলতি বছরের ৮ জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। ৮ জুন সূচকটি ছিল ৫ হাজার ৪৮২ পয়েন্টে।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৫ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৪৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে এনভয় টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, মালেক স্পিনিং, নিটল ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স এবং সাইথইস্ট ব্যাংক।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯০টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
এমএএস/এমআইএইচএস