সিম্ফনি মোবাইলের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব বলেছেন, ‘সিম্ফনি মোবাইলই আমাকে স্মার্ট করেছে।’ আমার কাছে সিম্ফনি শুধু একটি মোবাইল ফোনের ব্র্যান্ড নয়, বরং জীবনের একটি বিশেষ সময়ের স্মৃতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অন্যতম মাধ্যম।
সিম্ফনি মোবাইলের ১৪ কোটি গ্রাহক পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে এ কথা বলেন তৌসিফ মাহবুব।
তৌসিফ মাহবুব বলেন, ‘এখানে বসে এক-দুই মিনিট আগে যখন ১৪ কোটি জার্নির একটি ভিজ্যুয়াল দেখছিলাম, সঙ্গে সঙ্গে আমার একটি স্মৃতি মনে পড়ে যায়। সালটা ২০০৯, জুন-জুলাই মাস হবে। তখন আমি সিম্ফনি মোবাইল কিনবো বলে টিউশনি করে টাকা জমিয়েছিলাম। ৭ হাজার ৯৯০ টাকা দিয়ে সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ১০ ফোনটি কিনি। ফোনটি কেনার জন্য বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলাম। তারা নতুন ও দামি ফোন কেনার জন্য আমার কাছ থেকে ট্রিট নিয়েছিল। সেই ট্রিটের পেছনে আরও ৫০০ টাকা খরচ হয়।’
তিনি বলেন, ‘এই অনুভূতিটা আমার জন্য অনেক স্পেশাল ছিল। তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি এবং একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক হিসেবে কাজ করি। সে সময় বেশির ভাগ মানুষের কাছে বাটন ফোন ছিল। স্মার্টফোন খুব কম মানুষ দেখেছে। এমনকি স্মার্টফোন শব্দটিও তখন আমি জানতাম না।’
‘আমি যখন নতুন ফোনটি ক্লাসরুমে সবার সামনে ধরলাম, তখন একজন আমাকে বললো, স্যার, আপনি তো স্মার্ট হয়ে গেছেন। আমি বললাম, কেন? সে বলল, আপনি তো স্মার্টফোন ইউজ করেন। এই স্মার্ট হওয়া আমাকে আসলে শিখিয়েছে সিম্ফনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিম্ফনি মোবাইলটি ব্যবহার করে বুঝেছিলাম, শুধু ফোন দেওয়া নয়, একটি ফোন দিয়ে অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু এক্সপ্লোর করা যায়। তখন মোবাইলে ডব্লিউএপি দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হতো। ডব্লিউএপিতে ঢুকে ফেসবুক চালানো-আমার ওই সময় থেকেই ফেসবুক ছিল। আর আজ সেখানে আমারও প্রায় ৫০ লাখ ফলোয়ার।’
তৌসিফ মাহবুব বলেন, ‘এই জার্নিটা আমারও সিম্ফনির সঙ্গে একসঙ্গে, আলাদাভাবে করেছি। আজ একসঙ্গে করতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। ১৪ কোটি-শব্দটা শুনতে খুব বড় মনে হয়। কিন্তু এটি একদিনে অর্জন হয়নি। একদিনে কোনো কিছুই হয় না।’
এদিকে, দেশে যাত্রা শুরুর পর ১৬ বছরে এই সিম্ফনি মোবাইল এখন ১৪ কোটি মানুষের পরিবার। এই বিশেষ মুহূর্তকে আরও রঙিন করে তুলতে তিনজনকে পুরস্কার দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ফরিদপুরের রুবেল হোসেন হয়েছেন সিম্ফনির ১৩ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৯৮তম গ্রাহক। তাঁর ঠিক পরেই, ১৩ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৯৯তম গ্রাহক হিসেবে হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের নাদিয়া আক্তার। আর তারপরই আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, ময়মনসিংহের মাফিজা খাতুন গর্বের সঙ্গে হয়ে ওঠেন সিম্ফনির ১৪ কোটিতম গ্রাহক।
অনুষ্ঠানে এডিসন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিম্ফনি মোবাইলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাকারিয়া শাহিদ বলেন, এই অর্জনের পেছনের আসল শক্তি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আর আস্থা। ভবিষ্যতেও গ্রাহকের প্রয়োজন আর নতুন প্রযুক্তিকে কেন্দ্রে রেখেই সিম্ফনি ও এডিসন গ্রুপ একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চায় বলে জানান তিনি।
১৪ কোটি গ্রাহকের এই মাইলফলকই শেষ নয়, বরং আরেকটি বড় যাত্রার শুরু। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে দ্রুতগতির সংযোগ- প্রযুক্তির জগৎ পাল্টাচ্ছে প্রতিনিয়ত, আর সেই বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরও আধুনিক, প্রয়োজনভিত্তিক ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নিয়ে আসাই এডিসন গ্রুপ ও সিম্ফনি মোবাইলের আগামী দিনের লক্ষ্য।
ইএইচটি/এমএএইচ/