নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফুয়াদ হোসেন শাহাদাতকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মনিরুজ্জামান গত ১৯ আগস্ট এ রায় ঘোষণা করেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। আদালত সূত্রে জানা যায়, হাজারীবাগ থানার মামলা ২০২৪ সালের জুনে মামলাটির পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু মামলা হিসেবে মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলে। এতে মোহাম্মদ ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত ছিলেন একমাত্র আসামি।
রায়ের দিন অর্থাৎ ১৯ আগস্ট মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। সেদিন জামিনে থাকা আসামি ফুয়াদ আদালতে হাজির হন। একই সঙ্গে মামলার এজাহারকারীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলার নথি রায় ঘোষণার জন্য গ্রহণ করেন। পরে প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, আসামি মোহাম্মদ ফুয়াদ হোসেন শাহাদাতের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় আনা অভিযোগ প্রসিকিউশন পক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। এ কারণে তাকে মামলার দায় থেকে খালাস দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে জামিনে থাকা আসামির জামিনদারদের জামিননামার দায় থেকেও অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দেন আদালত। রায়ের অনুলিপি, অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের (সিএমএম) কাছে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছিলেন ফুয়াদ। পরে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এ চলতে থাকে।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমডিএএ/এমএএইচ/