হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে দাবি করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পানিপথের নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সহজ জয় পেতে যাচ্ছে।
টেক্সাসের ডালাসে আয়োজিত রিপাবলিকান দলের মিডটার্ম কনভেনশনে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই বিস্ফোরক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধে আমরা জয়ী হওয়ার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে কমে যাবে। এই যুদ্ধ এখনই চলছে ও আমরাই এতে জিতব।
যুক্তরাষ্ট্রই বর্তমানে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে দাবি করে ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আমরাই এতে জয়ী হচ্ছি। পুরো হরমুজ প্রণালি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমি মনে করি, এই হরমুজকে আমাদের এখন থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে ডাকা উচিত। আমারও তো এখান থেকে কিছু পাওয়া উচিত, তাই না? এটি ট্রাম্প প্রণালি হিসেবেই পরিচিত হবে।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও যোগ করেন, লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলমেন, আমার একটি ঘোষণা আছে- আমরা এটিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলেই ডাকব। আমি নিশ্চিত যে ইরানের নেতৃত্ব এই নাম শুনে দারুণ রোমাঞ্চ বোধ করবে।
বক্তব্যে ইরানকে আক্রমণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশটি ভেতরে ভেতরে পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে। গত ৫১ বছর ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ত্রাস বা মাস্তান হিসেবে রাজত্ব চালিয়ে আসছিল, কিন্তু তারা আর কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের সেই ত্রাস হিসেবে অবশিষ্ট নেই।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প সতর্কবার্তা জারি করেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসন ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ বা পিকঅ্যাক্স পর্বতে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে পারে, কারণ সেখানে সামান্য কিছু চলাচলের খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সেখানকার সব খবরাখবর রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ইরানকে সরাসরি হুশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা খুব ভালোভাবেই জানি সেখানে কী ঘটছে। তাই আমি ইরানকে কোনো ধরনের চালাকি বা বেশি বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেব। তা না হলে আমাদের বাধ্য হয়েই তাদের ওপর চরম আঘাত হানতে হবে। আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই, ঠিক তো? কারণ আমরা কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দিতে পারি না। বিষয়টি একদম সহজ ও পরিষ্কার।
উল্লেখ্য, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ও একটি বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে চলতি বছরের জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তি সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই জলপথ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে চরম সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এসএএইচ