বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষ ক্লাবগুলো বাফুফের কাছে যে চিঠি দিয়েছে তা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ১৩ ক্লাবের মধ্যে ১০টি স্বাক্ষরিত ৬ দফা দাবি সম্বলিত চিঠি মঙ্গলবার জমা পড়েছে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের টেবিলে। স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় নাম ছিল নবাগত সিটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হক মঈনের। তবে বুধবার সিটি ক্লাব বাফুফে সভাপতির কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে তারা এ ধরনের কোনো চিঠিতে স্বাক্ষর করেনি।
মঈনুল হক মঈন স্বাক্ষরিত সিটি ক্লাবের চিঠিতে বলা হয়েছে, সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। সিটি ক্লাব তাদের চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দিয়েছে। বাফুফে সভাপতির কাছে সিটি ক্লাবের দেওয়া চিঠিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের পরিচালক (ক্রীড়া) মোস্তাকুর রহমান।
বুধবার সন্ধ্যায় তিনি জাগো নিউজকে বলেছেন, তাদের মনোনীত দুইজন গিয়ে মঈনের স্বাক্ষর নিয়ে এসেছেন। তার আগে ক্লাবগুলো এক টেবিলে বসে যখন এই চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেই মিটিংয়েও ছিলেন সিটি ক্লাবের প্রতিনিধি। স্বাক্ষর নিয়ে সিটি ক্লাব সত্য কথা বলেনি। স্বাক্ষর দিয়ে অস্বীকার করছে ক্লাবটি।
বাফুফে সভাপতির কাছে সিটি ক্লাবের দেওয়া চিঠির কিছু বাক্য নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন মোহামেডানের শীর্ষ স্থানীয় এই কর্মকর্তা। চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন বাংলাদেশ ফুটবল লিগ ২০২৬-২৭ এর সময়সূচির ব্যাপারে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের বিপক্ষে কে বা কাহারা কিছু প্রস্তাবনা পেশ করেছে যার সাথে সিটি ক্লাবের কোনো সম্পর্ক নেই।
মোস্তাকুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘যে ১০ ক্লাব বাফুফেকে চিঠি দিয়েছে সেখানে মোহামেডান, আবাহনী, ব্রাদার্সসহ দেশের প্রতিষ্ঠিত ক্লাব রয়েছে। সিটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কি এই ক্লাবগুলোকে চেনেন না? এই ক্লাবগুলো সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই? তাহলে তিনি কি করে লিখলেন কে বা কাহারা। এই ক্লাবগুলোকে বাদ দিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গন কল্পনাও করা যায় না। অথচ তিনি বলছেন কে বা কাহারা। একজন ক্রীড়া সংগঠকের ভাষা এমন হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। তিনি সত্য না বলায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। ক্লাবগুলোকে নিয়ে আমরা আবার বসবো এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবো।’
স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে অভিযোগ করে তাদের বিপক্ষে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন সিটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। এ প্রসঙ্গে মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ‘তিনি (মঈন) যে স্বাক্ষর করেও বলছেন করিনি তার জন্য আমরাও তো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানাতে পারি। তবে ক্রীড়াঙ্গনে এসব পাল্টাপাল্টি কার্যক্রম ঠিক না। আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করছি।’
আরআই/এমএমআর