জান্নাত লাভ করার জন্য গভীর বিশ্বাসের সঙ্গে এই দোয়াটি পড়ুন:
رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا
উচ্চারণ: রজীতু বিল্লাহি রাব্বান ওয়া বিল-ইসলামি দীনান ওয়া বি-মুহাম্মাদিন রসুলান।
অর্থ: আমি আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাসুল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই কথাটি বলে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫২৯)
দোয়াটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
আলোচ্য দোয়াটি আপাতদৃষ্টিতে একেবারেই সংক্ষিপ্ত মনে হলেও এর ভেতরে মুমিনের পুরো ইমান ও জীবনদর্শনের মূল কথাটি নিহিত রয়েছে। দোয়াটি পড়লে জান্নাত অবধারিত হয়ে যাচ্ছে শুধু মুখে কিছু শব্দ উচ্চারণ করার কারণে নয়, বরং কেউ যখন গভীর বিশ্বাসের সঙ্গে এই কথাগুলো বলে এবং এর ওপর অটল থাকে, তা তার জীবনধারা বদলে দেয়, ফলে সে জান্নাতের উপযুক্ত হয়।
এই দোয়ায় তিনটি বিশ্বাসের ব্যাপারে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়:
১. আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে সন্তুষ্ট
‘রব’ শব্দের অর্থ পালনকর্তা, বিধানদাতা ও সার্বিক পরিচর্যাকারী। আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার অর্থ হলো, তাঁর প্রতিটি ফয়সালা, আদেশ-নিষেধ এবং তাকদিরের ভালো-মন্দকে হাসিমুখে গ্রহণ করা। জীবনের সুখ-দুঃখ, সুবিধা-অসুবিধা সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং অন্য কাউকে ইবাদত বা বিধান দেওয়ার যোগ্য মনে না করা। যে ব্যক্তি আল্লাহর রুবুবিয়্যাতে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে সন্তুষ্ট হয়ে যায়, সে শিরক ও পাপাচার থেকে মুক্ত হয়ে যায়।
আরও পড়ুন
রাতের নির্জনতায় যে দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.)
২. ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মেনে সন্তুষ্ট
ইসলাম কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠানের নাম নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট থাকার অর্থ হলো ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন ইসলামের আলোকে পরিচালনা করা। আধুনিক বিশ্বের নানা বস্তুবাদী মতবাদ বা আদর্শের সাময়িক চাকচিক্যে বিভ্রান্ত না হয়ে শরিয়তের নির্দেশনাকে নিজের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ও একমাত্র জীবনব্যবস্থা মনে করা।
৩. মুহাম্মাদকে (সা.) রাসুল হিসেবে মেনে সন্তুষ্ট
মুহাম্মাদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবী ও রাসুল হিসেবে মেনে সন্তুষ্ট থাকার অর্থ হলো, জীবন চলার পথে কেবল তাঁর দেখানো সুন্নাহ ও অনুসরণীয় পথকেই সর্ব উচ্চে স্থান দেওয়া। নিজস্ব মনগড়া মতামত, বিদআত বা অন্য কারো আদর্শের চেয়ে রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমেই আল্লাহর আনুগত্য ও ভালোবাসা লাভ করা সম্ভব।
আরও পড়ুন
অভাব দূর করার দোয়া
ওএফএফ