ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপ-পরিদর্শক আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেফতার আরও দুই আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকা প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক আরিফ হোসেন।
রিমান্ডে নেওয়া দুই আসামি হলেন কাশেম আলী (৩৮) ও দদি আল ফায়েত জিতে (১৯)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
সাভারে পুলিশ হত্যা: আরও তিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড
এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর একই মামলায় গ্রেফতার প্রধান আসামি জহুরুলের (৩২) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের বরদেশী পশ্চিমপাড়া এলাকায় আবুল কালাম আজাদের অটো গ্যারেজের সামনে একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে চালকের কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে সেখানে এগিয়ে যান ছুটিতে থাকা এসবি সদস্য আলতাফ হোসেন।
এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলতাফ হোসেন সেখান থেকে সরে গিয়ে তার ছেলে আরিফুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নেন।
পরে রাত ৮টার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই দোকানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় আলতাফ হোসেনকে রড, লোহার পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।
আরও পড়ুন
অটোরিকশা রাখা নিয়ে মারধরের প্রতিবাদ করায় এসবি সদস্যকে হত্যা
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। হামলাকারীরা দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি করে এবং ক্যাশ বাক্স থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আরিফুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।
এমডিএএ/এমএমকে