ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ব্যক্তি,পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণ জরুরি। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে জুমার খুতবা ও ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জন সচেতনতা তৈরিতে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় কার্যালয়ের আয়োজনে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকার প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্মসচিব এস এম তরিকুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান।
প্রধান অতিথি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়া। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে ইমাম ও ধর্মীয় নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। জুমার খুতবা ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের করণীয় তুলে ধরলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, শুধু সচেতনতা তৈরি করলেই হবে না, ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এদিকে একই দিন জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়নবিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণই পারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।