যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের জুডিশিয়ারি কমিটির তদন্তে সাড়া না দেওয়ায় নতুন করে আলোচনায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য ও র্যাঙ্কিং মাইনরিটি মেম্বার জেমি রাসকিনের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠির নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ইনফান্তিনো কোনো জবাব দেননি এবং চাওয়া নথিপত্রও জমা দেননি বলে জানা গেছে।
গত ২৬ জুলাই ইনফান্তিনোকে পাঠানো চিঠিতে রাসকিন ফিফার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার জন্য ‘দীর্ঘস্থায়ী প্রচারণা’ চালানোর অভিযোগ তুলে তদন্ত শুরুর কথা জানান। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা এবং উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি মামলার নিষ্পত্তিতে প্রভাব বিস্তারের মতো বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
এ ছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের ‘অতিরিক্ত উচ্চমূল্য’ নির্ধারণ করে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও তোলা হয়।
রাসকিন ৯ আগস্টের মধ্যে জবাব ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছিলেন এবং কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করতে বলেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের এক মাসেরও বেশি সময় পরও ফিফা সভাপতির কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। অবশ্য রাসকিন কোনো সাবপোনা জারি করেননি। ফলে অনুরোধ উপেক্ষা করার ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো ফৌজদারি শাস্তির বিধানও নেই।
এরই মধ্যে ইনফান্তিনোকে ঘিরে আরও কয়েকটি বিতর্ক সামনে এসেছে। গত জুলাইয়ে তার প্রস্তাবিত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নিয়ে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন ইভেন্টের বাণিজ্যিক ও পরিচালন কার্যক্রমের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল এবং এতে বেসরকারি বিনিয়োগ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
তবে তিনটি মহাদেশীয় কনফেডারেশন এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। পরে ১ আগস্ট ইনফান্তিনো প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করেন। ঘটনাটির পর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা জানায়, তারা ফিফা সভাপতির ওপর ‘আস্থা হারিয়েছে’।
ইনফান্তিনো এ ঘটনায় একটি পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই পর্যালোচনা কে পরিচালনা করবে, তা এখনো নিশ্চিত করেনি ফিফা। উয়েফা একটি স্বাধীন ও বহিরাগত পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ফৌজদারি কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের মাধ্যমে এফএফই-সংক্রান্ত নথি সংগ্রহের উদ্যোগও নিয়েছে তারা।
এদিকে বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ায় জুলাইয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে পেরেছিলেন বালোগুন।
সব বিতর্কের মধ্যেও আগামী মার্চে ফিফা সভাপতির পদে পুনর্নির্বাচনে লড়ার বিষয়ে অনড় ইনফান্তিনো। বর্তমানে তিনিই একমাত্র প্রার্থী। তবে ২৭ আগস্ট উয়েফা একটি বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করানোর চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে। প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর।
এদিকে ২০৩০ বিশ্বকাপের পরিধি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে একটি বিশ্লেষণ ১১ সেপ্টেম্বর ফিফার কাছে জমা দেওয়ার কথা। দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবল-এর সমর্থন রয়েছে ২০৩০ বিশ্বকাপকে ৬৪ দলে সম্প্রসারণের প্রস্তাবের প্রতি।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে শতবর্ষ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতে একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এমএমআর