জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে ফার্মগেট থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত রাস্তার পাশে শত শত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় এবং রপ্তানি শুরু করে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।
বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে কৃষক কার্ডের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও ইমামদের ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন চিফ হুইপ। পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক এবং চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি জাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনা করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি নিয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।
অর্থ পাচার রোধ এবং দেশের আর্থিক সুরক্ষার জন্য অর্থমন্ত্রী ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল করেছেন বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন
চিফ হুইপ / বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সম্পত্তি হস্তান্তর বিল পাস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন জনসভার বক্তব্য তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি পুরো দেশের প্রধানমন্ত্রী। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার কারণে জনগণের কষ্টের জন্য প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি থাকলে তা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সংসদে বাকস্বাধীনতা চর্চার পাশাপাশি শালীনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে নূরুল ইসলাম বলেন, সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকবেই। তবে জাতীয় স্বার্থে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শালীনতা বজায় রেখে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি সরকার ও বিরোধীদলকে গণতন্ত্র পুনর্নির্মাণ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান উপস্থিত ছিলেন।
এমওএস/একিউএফ