বর্তমানে ভোজনরসিকদের অনেকেই পছন্দের কোনো খাবার খাওয়ার আগে ফেসবুক-ইউটিউবে সে সম্পর্কিত ভিডিও বা ভ্লগগুলো দেখে নেন। এই আধুনিক সময়ে দোকানি বা রেস্তোরাঁ মালিকরদের বিকিকিনিতেও একটা প্রভাব থাকে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের। তবে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এরকমই এক ভ্লগার দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এক মিষ্টির দোকানি। তার দাবি-মিষ্টিতে ইচ্ছাকৃতভাবে পোকা দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে নগদ টাকা ও আইফোন চেয়েছেন ওই ভ্লগার দম্পতি। নাহলে ভিডিও ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার প্রফুল্লনগরে ঘটেছে এ ঘটনা। পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে সেখানকার শ্রীকৃষ্ণ সুইটস নামের একটি দোকানে যান সহেলি দে সূত্রধর এবং তার স্বামী সুব্রত দে। পরে তারা খেতে গিয়ে দাবি করেন, মিষ্টির মধ্যে পোকা রয়েছে। এ নিয়ে ওই দোকানের মালিকের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয় তাদের। পরবর্তীতে, বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ ওই মিষ্টির দোকানের মালিক নয়ন ঘোষের হোয়াট্সঅ্যাপে পোকা ধরা মিষ্টির ছবি এবং ভিডিও পাঠানো হয়। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
ওই দোকানি অভিযোগ করেন, ওই ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেন বলে তাকে হুমকিও দেন অভিযুক্ত দম্পতি। তাকে বার বার ফোন করে ব্ল্যাকমেইল করা হয় এবং ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অভিযুক্তদের বাড়িতেও যেতে বলা হয়।
এরপর অভিযুক্তদের বাড়িতে যান দোকানি নয়ন। তার দাবি, ভ্লগার দম্পতি তাকে জানান, ওই ভিডিও এবং ছবি তারা মুছে ফেলবেন যদি এর পরিবর্তে আইফোন এবং নগদ অর্থ দেওয়া হয় তাদের। ওই দোকানি আরও দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মিষ্টিতে পোকা মেশানো হয়েছে। এরপর ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন অভিযুক্তেরা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই দোকানি জানান, তার মিষ্টি তৈরির কারখানায় আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এবং খাদ্যসুরক্ষা নিয়ম মেনেই পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মিষ্টি তৈরি করা হয়। এ কারণে মিষ্টিতে পোকা থাকার বিষয়টি নিয়ে তার সন্দেহ তৈরি হয়। ব্যবসা ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং টাকা আদায়ের উদ্দেশে অভিযুক্তরা এটা করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওই ভ্লগার দম্পতির বিরুদ্ধে এরইমধ্যে হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয়েছে।
এএমএ