পাকিস্তানি অভিনেত্রী দুরে ফিশান সেলিম এখন শুধু পাকিস্তানেই নয়, বাংলাদেশি দর্শকদের কাছেও বেশ পরিচিত মুখ। নতুন নাটক ‘দার-এ-নাজাত’ মুক্তির পর তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
বিশেষ করে নাটকে তার সংলাপ বলার ধরন ও ইংরেজি উচ্চারণ নিয়ে দর্শকদের একাংশ সমালোচনা করেছেন। তবে বিতর্কের বাইরেও দুরে ফিশানের যে দিকটি বারবার নজর কাড়ে, সেটি হলো তার ফ্যাশন সেন্স।
কখনো রাজকীয় ব্রাইডাল সাজ, কখনো গ্ল্যামারাস গাউন, আবার কখনো একেবারে সাধারণ ক্যাজুয়াল পোশাকে-প্রতিটি লুকেই নিজের আলাদা স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে দেখা যায় তাকে।
দুরে ফিশানের অন্যতম নজরকাড়া সাজ তার ব্লাশ পিঙ্ক ব্রাইডাল লুক। হালকা গোলাপি রঙের গর্জিয়াস লেহেঙ্গাতে তাকে দেখা যায় একেবারে রাজকন্যার মতো। নেট ও অরগাঞ্জা কাপড়ের ওপর মুক্তা, সিকুইন ও ঝলমলে ক্রিস্টালের ভারী কাজ পোশাকটিকে দিয়েছে বিলাসবহুল আবহ। সঙ্গে থাকা ওড়নাতেও রয়েছে জমকালো এমব্রয়ডারি।
এই ব্রাইডাল পোশাকটি তৈরি করেছে পাকিস্তানের বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউস ফারহা তালাইব আজিজ। পোশাকের ভারী কাজের সঙ্গে দুরে ফিশানের সাজে রাখা হয়েছে বেশ পরিমিত ভারসাম্য।
মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ। ডিউই বেস, হালকা গোলাপি ব্লাশ, ন্যুড-পিঙ্ক গ্লসি ঠোঁট এবং চোখে নরম শিমারের ব্যবহার তাকে দিয়েছে সতেজ ও উজ্জ্বল লুক।
গয়নাতেও ছিল আধুনিকতার ছোঁয়া। ভারী সোনার সেটের বদলে গলায় চওড়া ডায়মন্ড চোকার, কানে ম্যাচিং ড্রপ ইয়াররিংস, কপালে ছোট ডায়মন্ড মাংটিকা এবং হাতে চিকন ব্রেসলেট-আংটি-সব মিলিয়ে সাজটি হয়েছে অভিজাত। চুলে করা হয়েছে স্লিক লো বান। খোঁপার চারপাশে সাদা ফুলের গাজরা যোগ হওয়ায় আধুনিক ব্রাইডাল লুকেও এসেছে ঐতিহ্যের মায়া।
ব্রাইডাল লুকের একেবারে বিপরীতে দুরে ফিশানকে দেখা যায় গাঢ় লাল রঙের ফ্লেয়ার্ড আনারকলি-গাউন ঘরানার পোশাকে। ফুল-স্লিভ এই পোশাকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ নিচের বিশাল ফ্লেয়ার। সেখানে থ্রি ডি কাপড়ের গোলাপ ও পাতার মোটিফ পোশাকটিকে দিয়েছে নাটকীয় ভলিউম।
বডিসে সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি এবং সামনের বোতামের প্যানেল লুকে যোগ করেছে রাজকীয়তা। সঙ্গে থাকা ম্যাচিং দোপাট্টাও সাজটিকে করেছে সম্পূর্ণ। এখানেও মেকআপ রাখা হয়েছে খুব বেশি ভারী নয়। গ্লোয়িং বেস, হালকা ব্লাশ, ন্যুড আইশ্যাডো এবং সফট রেড-বেরি লিপস্টিক-সবকিছু মিলে তৈরি হয়েছে পরিপাটি গ্ল্যামার।
মাঝখানে সিঁথি করে নরম ওয়েভে খোলা চুল লুকটিকে দিয়েছে আরও এলিগেন্ট আবহ। ভারী পোশাকের সঙ্গে গলায় কোনো নেকলেস না পরে মাঝারি আকারের ঝুলন্ত স্টেটমেন্ট দুল বেছে নেওয়াটাও ছিল স্টাইলিংয়ের চমৎকার সিদ্ধান্ত।
দুরে ফিশানের ফ্যাশনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত এখানেই-জমকালো পোশাকের মতো সাধারণ সাজেও তিনি সাবলীল।
কখনো ডিপ কালারের ফুল-স্লিভ বডিকন টপের সঙ্গে কালো উলের মাফলার এবং চকলেট-ব্রাউন ম্যাক্সি স্কার্ট, কখনো সাদা কুর্তি, আবার কখনো লেদার জ্যাকেট ও ডেনিম, টপস বিভিন্ন কম্বিনেশনে দেখা যায় তাকে।লেস টপের সঙ্গে ডেনিম কিংবা লেদার জ্যাকেটের মতো সহজ স্টাইলিংয়েও তার লুকে থাকে আধুনিকতার ছাপ। এখানে বাড়তি গয়না বা ভারী মেকআপের প্রয়োজন পড়ে না। বরং পোশাকের কাট, রঙের সমন্বয় এবং চুলের স্বাভাবিক স্টাইলই হয়ে ওঠে মূল আকর্ষণ।
দুরে ফিশানের ফ্যাশন তাই শুধু ঝলমলে ব্রাইডাল পোশাকে আটকে নেই। রাজকীয় লেহেঙ্গা থেকে একেবারে সিম্পল ডেনিমের প্রতিটি লুকেই তিনি প্রমাণ করছেন, ফ্যাশনে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিজের স্টাইলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বহন করা।
সমালোচনা যতই থাকুক, পোশাক-সাজে দুরেফিশানের এই বহুমাত্রিকতা যে দর্শকের নজর এড়াচ্ছে না, সেটাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়।
এসএকেওয়াই