
অঙ্ক করার প্রথম ধাপই নামতা শেখা। ১০ বা ১১ ঘরের নামতা মুখস্থ করা বেশ সহজ, কিন্তু তার ওপরের সংখ্যাগুলোতে গেলেই মাথা গুলিয়ে যায়। যেমন, হুট করে তুমি বলে দিতে পারবে, ১৬ ও ৮ গুণ করলে কত হবে? হয়তো ১৬-এর ঘরের নামতা তোমার মুখস্ত নেই, আসলে বেশিরভাগ মানুষেরই থাকে না। দু-একজন ব্যতিক্রম থাকতে পারে। তবে বেশিরভাগ মানুষই এই গুণের জন্য পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে সমাধান শুরু করে দেবে।
কিন্তু আজ তোমাকে এমন একটা জাদুর কৌশল শেখাব, যার সাহায্যে ১২ থেকে ৯৯ পর্যন্ত নামতা তুমি মনে মনেই কষে ফেলতে পারবে! এখানে একটা মজার তথ্য জানিয়ে রাখি। এই কৌশলটি ব্যবহার করে ২ হাজার ৩১২ জন শিক্ষার্থীকে ৯৯ পর্যন্ত নামতা শিখিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়া হয়েছিল। হাজার হাজার শিক্ষক এই কৌশলটি তাঁদের শিক্ষার্থীদের শিখিয়ে দারুণ ফলাফলও পেয়েছেন।
কৌশলে যাওয়ার আগে আরও একটা তথ্য জানিয়ে রাখি। আমাদের মস্তিষ্ক প্যাটার্ন বা ছক বুঝতে ভালোবাসে। একটা সহজ পরীক্ষা করা যাক। ৯৮১০১৯৯১০১ একটি সংখ্যা। এখন চোখ বন্ধ করে সংখ্যাটা বলতে পারবে? হয়তো পারবে না। আচ্ছা ১০ সেকেন্ড সংখ্যাটা আবার ভালোভাবে দেখ। ১০ সেকেন্ডের বেশি সময় নিও না কিন্তু। এবার বলতে পারবে? হয়তো এখনো পারবে না। এবার এটা দেখ: ৯৮-১০১-৯৯-১০১। এখন কি এই সংখ্যাটা বলতে পারবে? হয়তো পারবে। আসলে এখানে দুটি সংখ্যা একই। প্রথমটায় প্যাটার্ন আকারে সাজানো নেই, কিন্তু দ্বিতীয়টায় সাজানো আছে। তাই একবার দেখেই তুমি হয়তো এখন বলে দিতে পারবে আটানব্বই-এক শ এক-নিরানব্বই-এক শ এক। প্যাটার্ন সহজেই আমাদের মস্তিষ্কে সেভ হয়ে থাকে। অঙ্কও ঠিক এমনই এক প্যাটার্নের খেলা। না বুঝে মুখস্থ করার চেয়ে প্যাটার্ন ধরে শিখলে নামতাও অনেক সহজ হয়ে যাবে।
আমাদের মস্তিষ্ক প্যাটার্ন বা ছক বুঝতে ভালোবাসে। একটা সহজ পরীক্ষা করা যাক। ৯৮১০১৯৯১০১ একটি সংখ্যা। এখন চোখ বন্ধ করে সংখ্যাটা বলতে পারবে? হয়তো পারবে না।
এই জাদু শেখার আগে তোমার দুটি জিনিস জানা থাকতে হবে:
১ থেকে ৯ পর্যন্ত নামতা খুব ভালোভাবে জানা থাকতে হবে।
মনে মনে দুটি সংখ্যা যোগ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
প্রথমে ১২-এর নামতা দেখা যাক। ২-এর নামতা জানা থাকলেই ১২-এর নামতা বের করা যায়। আগে ছবিটা দেখ, এরপর ব্যাখ্যা দেখলেই বিষয়টা পরিস্কার হয়ে যাবে।

২ × ১ = ২। এখানে গুণক ১-কে গুণফল ২-এর দশকের ঘরে বসিয়ে দিলেই পেয়ে যাবে ১২ × ১ = ১২।
একইভাবে ২ × ২ = ৪ থেকে ১২ × ২ = ২৪।
২ × ৩ = ৬ থেকে ১২ × ৩ = ৩৬।
২ × ৪ = ৮ থেকে ১২ × ৪ = ৪৮।
কিন্তু যদি গুণফল দুই অঙ্কের হয়? যেমন ১২ × ৫? এখানে গুণক ৫-কে গুণফল ১০-এর দশকের ঘরের অঙ্ক ১-এর সঙ্গে যোগ করতে হবে। অর্থাৎ ৫ + ১ = ৬। আর এককের ঘরের শূন্য যেমন আছে তেমনই থাকবে। তাহলে ১২ × ৫ = ৬০!
১২ × ৫? এখানে গুণক ৫-কে গুণফল ১০-এর দশকের ঘরের অঙ্ক ১-এর সঙ্গে যোগ করতে হবে। অর্থাৎ ৫ + ১ = ৬। আর এককের ঘরের শূন্য যেমন আছে তেমনই থাকবে। তাহলে ১২ × ৫ = ৬০!
একইভাবে ৩-এর নামতা দিয়ে ১৩-এর নামতা, ৪-এর নামতা দিয়ে ১৪-এর নামতা, ৫-এর নামতা দিয়ে ১৫-এর নামতা, ৭-এর নামতা দিয়ে ১৭-এর নামতা এবং ৯-এর নামতা দিয়ে ১৯-এর নামতা বের করতে পারবে। ধরো, তুমি ১৩ × ৬ বের করতে চাও। পুরো নামতা পড়ার কোনো দরকার নেই।
মনে মনে ৩ × ৬ = ১৮ ভাবো।
এবার গুণক ৬-এর সঙ্গে ১৮-এর দশকের ঘরের ১ যোগ করো; মানে ৬ + ১ = ৭।
আর এককের ঘরের ৮ শেষে বসে যাবে। অর্থাৎ উত্তর: ৭৮।
চলো আরও কিছু উদাহরণ দেখি:
১৬ × ৮: প্রথমে ৬ × ৮ = ৪৮। এবার ৮ এবং ৪ যোগ করো (৮ + ৪ = ১২)। শেষে এককের ঘরের ৮ বসিয়ে দাও। উত্তর: ১২৮।
১৭ × ৭: প্রথমে ৭ × ৭ = ৪৯। এবার ৭ এবং ৪ যোগ করো (৭ + ৪ = ১১)। শেষে ৯ বসিয়ে দাও। উত্তর: ১১৯।
১৯ × ৬: প্রথমে ৯ × ৬ = ৫৪। এবার ৬ এবং ৫ যোগ করো (৬ + ৫ = ১১)। শেষে ৪ বসিয়ে দাও। উত্তর: ১১৪।
মনে মনে ৩ × ৬ = ১৮ ভাবো। এবার গুণক ৬-এর সঙ্গে ১৮-এর দশকের ঘরের ১ যোগ করো; মানে ৬ + ১ = ৭। আর এককের ঘরের ৮ শেষে বসে যাবে। অর্থাৎ উত্তর: ৭৮।
১২ থেকে ১৯ পর্যন্ত নামতাগুলো এক সপ্তাহ প্র্যাকটিস করলেই তুমি ২১ থেকে ৯৯ পর্যন্ত যেকোনো নামতা মনে মনে কষে ফেলতে পারবে। ধরো, তুমি ৮৭-এর নামতা বের করতে চাও।
প্রথমে ৮-এর নামতা এবং তার পাশে ৭-এর নামতা কল্পনা করো।
৮৭ × ৪: প্রথমে ৮ × ৪ = ৩২ এবং ৭ × ৪ = ২৮ ভাবো। এবার ৩২-এর সঙ্গে ২৮-এর দশকের ঘরের ২ যোগ করো। অর্থাৎ ৩২ + ২ = ৩৪। শেষে ৮ বসিয়ে দাও। উত্তর: ৩৪৮।
৮৭ × ৬: প্রথমে ৮ × ৬ = ৪৮ এবং ৭ × ৬ = ৪২। এবার ৪৮-এর সঙ্গে ৪২-এর দশকের ঘরের ৪ যোগ করো (৪৮ + ৪ = ৫২)। শেষে এককের ঘরের ২ বসিয়ে দাও। উত্তর: ৫২২।
৮৭ × ৭: প্রথমে ৮ × ৭ = ৫৬ এবং ৭ × ৭ = ৪৯। ৫৬-এর সঙ্গে ৪৯-এর দশকের ঘরের ৪ যোগ করো (৫৬ + ৪ = ৬০)। শেষে ৯ বসিয়ে দাও। উত্তর: ৬০৯।
এভাবে তুমি যেকোনো নামতা ম্যাজিকের মতো করে ফেলতে পারবে!
শেষ করার আগে একটু ধাঁধা হয়ে যাক। ধাধাটি হলো: আমি ৯-এর সঙ্গে ৫ যোগ করে ২ পাই। উত্তরটি সঠিক, কিন্তু কীভাবে?