একমাত্র সন্তানকে হারানোর পর ২২ বছর আগে সংরক্ষণ করা ভ্রূণ ব্যবহার করে আবার মা হয়েছেন গ্রিসের ৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা রাপ্তি-তজেলেপি। গত বুধবার এথেন্সের একটি হাসপাতালে আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্ম নেয় তার কন্যাসন্তান জর্জিয়া।
ক্রিস্টিনা ও তার স্বামী কনস্টান্টিনোসের ২১ বছর বয়সী ছেলে জর্জোস গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ছেলেকে হারানোর সেই শোক থেকেই নতুন করে পরিবার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এর আগে জর্জোসও আইভিএফের মাধ্যমে জন্মেছিলেন।
তবে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময় ছিল খুবই কম। গ্রিসে আইভিএফের জন্য নারীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৪ বছর। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন ক্রিস্টিনা। জন্মের পর জর্জিয়ার ওজন ছিল ৩ দশমিক ৪৯ কেজি।
গত বছরের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত ভ্রূণগুলোর একটি ক্রিস্টিনা রাপ্তি-তজেলেপির জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।সফলভাবে গর্ভধারণের পর বুধবার কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি।
আরও পড়ুন
এটিএমে পড়ে থাকা ১৯০০ ক্রোনা নিয়ে ৫২ হাজার ক্রোনা জরিমানা
চিকিৎসক কনস্টান্টিনোস প্যান্টোস জানান, দম্পতির আরও নয়টি ভ্রূণ সংরক্ষিত আছে। ভবিষ্যতে আরেকটি সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও গ্রিসের প্রচলিত আইনি বিধিনিষেধের কারণে সেই সুযোগ এখন আর তাদের নেই।
সন্তান জন্মের পর ক্রিস্টিনা বলেন, নতুন করে জীবন শুরু করতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরিবারের হারানো অধ্যায়ের পর জর্জিয়ার আগমন তাদের ঘরে আবার আনন্দ ফিরিয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি সামনে আসার পর গ্রিসে আইভিএফের বয়সসীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্রিস্টিনার ৬০ বছর বয়সী স্বামী কনস্টান্টিনোস এই সীমা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন হিমায়িত ভ্রূণ থেকে সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে অবশ্য এটি সবচেয়ে পুরোনো ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে ২০২৪ সালে প্রায় ৩১ বছর সংরক্ষিত একটি ভ্রূণ থেকে শিশুর জন্ম হয়েছিল।
এমআরএম