নিউইয়র্কে এসে যেন আরিনা সাবালেঙ্কার সবকিছুই নিজের করে নিলেন এলেনা রাইবাকিনা। প্রথমে বিশ্ব টেনিসের এক নম্বর র্যাঙ্কিং, এরপর ইউএস ওপেনের ট্রফি। যে টুর্নামেন্ট একসময় রাইবাকিনার জন্য ছিল হতাশার, সেই ফ্লাশিং মিডোজেই এবার হলো তার রাজ্যাভিষেক।
শনিবার ইউএস ওপেন নারী এককের ফাইনালে শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কাকে ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছেন কাজাখস্তানের রাইবাকিনা। এই জয়ের সঙ্গে তার বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থানও পাকাপোক্ত হয়েছে।
এই হারের আগে ইউএস ওপেনে টানা ১৯ ম্যাচ জিতেছিলেন সাবালেঙ্কা। ২০২৩ সালের ফাইনালে কোকো গফের কাছে হারের পর ফ্লাশিং মিডোজে আর কোনো ম্যাচ হারেননি তিনি।
টানা তৃতীয় ইউএস ওপেন শিরোপা জিতে ওপেন যুগে মাত্র তৃতীয় নারী খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল সাবালেঙ্কার সামনে। কিন্তু শেষ ধাপে এসে সেই স্বপ্ন ভেঙে দেন রাইবাকিনা।
ফাইনালে পরাজয়ের হতাশা ম্যাচ চলাকালেই প্রকাশ পেতে শুরু করে সাবালেঙ্কার আচরণে। প্রথম সেটে গুরুত্বপূর্ণ একটি ডাবল ফল্ট করে নিজের সার্ভিস হারানোর পর ক্ষোভে একটি টেনিস বল দর্শকদের দিকে ছুড়ে মারেন তিনি। সম্প্রচারকারীদের বরাতে জানা যায়, বলটি কোর্টের পাশের একটি ক্যামেরায় আঘাত করে।
ম্যাচ শেষে হতাশা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর কোর্টেই নিজের র্যাকেট ভেঙে ফেলেন বেলারুশ তারকা।
পুরস্কার বিতরণী শেষ হওয়ার পরও নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না তিনি। দলের সঙ্গে বসে থাকার সময় এক ভিডিও নির্মাতা তার কাছে এলে তাকে সরে যেতে ইঙ্গিত করেন সাবালেঙ্কা।
পরে সাংবাদিকদের সাবালেঙ্কা বলেন, ‘গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে হারলে, বিশেষ করে যখন টানা তৃতীয় শিরোপার জন্য খেলছেন, তখন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সত্যিই কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুধু সবকিছু বের করে দিতে চেয়েছিলাম। ভেতরে চেপে রাখলে হয়তো একটা কথাও বলতে পারতাম না।’
সাবালেঙ্কার হতাশার বিপরীতে রাইবাকিনার উত্থান যেন একই গল্পের দুই প্রান্ত। নিউইয়র্কে একদিকে শেষ হলো সাবালেঙ্কার আধিপত্য, অন্যদিকে শুরু হলো রাইবাকিনার নতুন রাজত্ব।
এমএমআর