দক্ষিণ এশিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সার্ক কালচারাল সেন্টারের (এসসিসি) তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালা।
‘সার্ক প্রমোটিং ডিজিটাল টেকনোলিজি ফর পগ্রেসিভ কালচার হেরিটেজ’ শীর্ষক এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ‘ভার্চুয়াল মিউজিয়াম বাংলাদেশ’ এর প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ জামান সঞ্জিব।
আগামী ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর কলম্বোয় সার্ক কালচারাল সেন্টারে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে। হাইব্রিড পদ্ধতিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মনোনীত প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঐতিহ্যবিষয়ক পেশাজীবী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আইটি বিশেষজ্ঞ, ডিজিটাল ক্রিয়েটর ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এতে অংশ নেবেন।
আরও পড়ুন
সার্কের পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত শামা ওবায়েদের
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, জাদুঘর, শিল্পকর্ম, লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান, পারফর্মিং আর্টসহ নানা ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণই কর্মশালাটির মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন, ডিজিটাল আর্কাইভ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), থ্রিডি মডেলিং, জিআইএস ও অনলাইন ভার্চুয়াল প্রদর্শনীর মতো প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হবে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে আহমেদ জামান সঞ্জিব একটি সেশন ১২-তে রিসোর্স পারসন হিসেবে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি রূপরেখা তুলে ধরবেন। তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সংরক্ষণ এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
সার্ক কালচারাল সেন্টার জানিয়েছে, এ কর্মশালার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সফল ডিজিটাল ঐতিহ্য সংরক্ষণ উদ্যোগ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করা প্রযুক্তিবিদ, গবেষক, জাদুঘরকর্মী ও সাংস্কৃতিক পেশাজীবীদের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।
‘ভার্চুয়াল মিউজিয়াম বাংলাদেশ’ কী?
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোকে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের উদ্যোগ হিসেবে ‘ভার্চুয়াল মিউজিয়াম বাংলাদেশ (ভিএমবি)’ যাত্রা শুরু করে। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রজেক্ট হেড আহমেদ জামান সঞ্জিবের নেতৃত্বে এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে।
আরও পড়ুন
সামরিক জাদুঘরে ডিজিটাল পার্কিং সেবা চালু
২০২২ সালে রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভার্চুয়াল মিউজিয়াম বাংলাদেশ উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে ঘরে বসেই ভিআর হেডসেট বা কম্পিউটারের সাহায্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ভার্চুয়ালি ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভিআর হেডসেট ছাড়াও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কিছু স্থাপনার ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চুয়াল ট্যুর দেখার সুবিধা রয়েছে।
প্রকল্পটির ভার্চুয়াল সংগ্রহে ষাট গম্বুজ মসজিদ, ছোট সোনা মসজিদ, বড় সরদারবাড়ি, পানাম নগর, এগারো শিবমন্দির ও কান্তজিউ মন্দিরসহ বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো যুক্ত হয়েছে। পরবর্তীতে সোমপুর মহাবিহারের ভার্চুয়াল সংস্করণও যুক্ত করা হয়।
ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নথিবদ্ধ, সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে সহজলভ্য করার এই উদ্যোগই এবার দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিসরে বাংলাদেশের একটি উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে।
ইএইচটি/এমএমকে