নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এক গৃহবধূকে (৪০) শ্লীলতাহানির পর ইটের আঘাতে আঙুল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসময় তাকে মারধরও করা হয়।
এ ঘটনায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী তিন সন্তানের জননী। তার স্বামী একজন দিনমজুর। অভিযুক্ত ছেলে লাল চাঁন (৪৩) উপজেলার পানুর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি সম্পর্কে শেফালী আক্তারের দেবর।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে পানুর চরপাড়া এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান ওই গৃহবধূ। সেখানে লাল চাঁনও উপস্থিত ছিলেন। এসময় পারিবারিক বিষয় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে লাল চাঁন শেফালীর চুলের মুঠি ধরে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুসি ও লাথি মারেন।
মারধরের একপর্যায়ে লাল চাঁন একটি ইট দিয়ে শেফালীর মাথায় আঘাত করেন। দ্বিতীয়বার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল গুরুতর জখম হয়। এসময় তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে অটোরিকশায় করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ভাঙা আঙুলের প্লাস্টার করার পাশাপাশি অন্যান্য আঘাতেরও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অবস্থা জটিল হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা।
ভুক্তভোগী বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন ছুটে না এলে লাল চাঁন আমাকে মেরেই ফেলত। চিকিৎসক আমাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছিল। কিন্তু টাকার অভাবে যেতে পারিনি।’
আরও পড়ুন
মাওয়ায় খাবারের হোটেলে বেদে সম্প্রদায়ের হামলা
তিনি বলেন, ‘এর আগেও লাল চাঁন আমাকে মারধর করে বাম হাত ভেঙে দিয়েছিল। সে প্রভাবশালী আর আমরা দিনমজুর। তাই এভাবে মারধর করলেও বিচার পাই না।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত লাল চাঁনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
অভিযোগের কপি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুনের বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এইচ এম কামাল/এসআর/এএসএম