পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে সোনা ও রুপায় সমৃদ্ধ বিশাল একটি খনিজ ভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। আবিষ্কৃত এই খনিজ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বেশ বড় বলে জানিয়েছেন তারা। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কয়েকটি চীনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ বৈজ্ঞানিক অভিযানে এই খনিজ ভাণ্ডারের সন্ধান পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন
পড়তির দিকে সোনার দাম, কমছে রুপারও
এক টন আকরিকে এক কেজির বেশি রুপা
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্রতলের ওই হাইড্রোথার্মাল এলাকায় পাওয়া আকরিতে মূল্যবান ধাতুর ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সর্বোচ্চ মানের আকরিতে প্রতি টনে রুপার পরিমাণ এক কেজিরও বেশি।
গবেষকেরা বলছেন, সেখানকার গড় ধাতব উপাদানের পরিমাণ স্থলভাগের সাধারণ খনিজ ভাণ্ডারের তুলনায়ও বেশি।
সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ওশান ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপপরিচালক ও প্রকল্পের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী সং শিজি বলেন, বড় এই সমুদ্রতল খনন এলাকায় অত্যন্ত উচ্চমাত্রার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন
সোনার দাম কি আরও কমবে? জবাব মিলবে যে ৩ প্রশ্নে
কীভাবে তৈরি হয় এই খনিজ
সমুদ্রের তলদেশে ভূতাপীয় কার্যকলাপের কারণে অত্যন্ত উত্তপ্ত ও খনিজসমৃদ্ধ পানি ফাটল বা ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসে। এসব স্থানকে হাইড্রোথার্মাল ফিল্ড বলা হয়।
এই উত্তপ্ত পানি যখন প্রায় হিমশীতল সমুদ্রের পানির সংস্পর্শে আসে, তখন দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। এর ফলে পানিতে থাকা ধাতু সালফারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কঠিন সালফাইড খনিজ হিসেবে তলদেশে জমা হয়।
এসব খনিজের মধ্যে সাধারণত তামা, দস্তা ও সিসা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে সোনা এবং রুপাও পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরিয়ে নিচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো, কারণ কী?
চীনের বড় সমুদ্র গবেষণা অভিযান
এই অনুসন্ধান অভিযানে চীনের কিংদাও ইনস্টিটিউট অব মেরিন জিওলজি এবং সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরাও অংশ নেন।
গত ১০ আগস্ট শেনঝেন থেকে গবেষণা অভিযানটি শুরু হয়। গবেষকেরা চীনের নিজস্ব নকশা ও প্রযুক্তিতে তৈরি বিশাল সমুদ্র গবেষণাজাহাজ ‘শিয়াং ইয়াং হং ১০’-এ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
গবেষকদের পাওয়া এই আবিষ্কার সমুদ্রতলের খনিজ সম্পদ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করতে পারে। তবে সমুদ্রতল থেকে এসব মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত, পরিবেশগত ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকেএএ/