চট্টগ্রামের ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ সংস্কারে অনিয়ম, অনভিজ্ঞ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ নীতিমালা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালককে এ নোটিশ পাঠান। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী নিজে।
নোটিশে জনস্বার্থ ও সরকারি সম্পদের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ সংস্কারে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ, অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত এবং এর মাধ্যমে কেউ আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন কি না, তা তদন্তের দাবি জানানো হয়।
এজন্য নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থাপত্য ও পুরকৌশল বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
নোটিশে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জনস্বার্থে দেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ সংস্কারের নামে হেরিটেজ বিনষ্টের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।
নোটিশের অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরকেও পাঠানো হয়েছে।
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর/ফাইল ছবি
নোটিশে বলা হয়েছে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। তার স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন সার্কিট হাউজ ভবনকে ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে’ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নিদর্শন সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। সময়ের পরিক্রমায় জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
নোটিশে আরও বলা হয়, অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সংস্কারকাজের জন্য ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে জাদুঘরটি বন্ধ রয়েছে।
তবে সংস্কারকাজে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা নির্মাণে অনভিজ্ঞ ও ‘ভুঁইফোড়’ প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ, কাজে অবহেলা ও ধীরগতি, নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করে হেরিটেজ ধ্বংস করে অবকাঠামোর পরিবর্তন, বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা এবং আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিবেদনও প্রচারিত হয়েছে বলে এতে বলা হয়।
আরও পড়ুন
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত হেরিটেজ ঘোষণা করা হবে: অর্থমন্ত্রী
নোটিশে দাবি করা হয়, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমৃদ্ধ ভবনটি পুনর্নির্মাণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি), চট্টগ্রাম কেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের মতামত উপেক্ষা করে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ‘মেসার্স ইসমত এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
এরপর কার্যাদেশ দেওয়ার দিনই বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের মূল ভবনের পুরোনো অবকাঠামো ভাঙচুর করে সংস্কারকাজের নামে ঐতিহ্য বিনষ্ট করা হয়েছে বলেও নোটিশে অভিযোগ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারে তড়িঘড়ি করে কার্যাদেশ দেওয়া, বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানো, স্থাপনার অবকাঠামোগত পরিবর্তন, সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা এবং কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এফএইচ/এমএমকে