বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় জনস্বাস্থ্য উদ্ভাবন তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। এসব উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে শিশুদের গুরুতর নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় স্বীকৃত স্বল্পমূল্যের ‘বাবল সিপ্যাপ’ এবং শিশু অপুষ্টি মোকাবিলায় ‘মাইক্রোবায়োটা-ডিরেক্টেড ফুড’।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ঢাকার নভোথিয়েটারে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মেলার দ্বিতীয় দিনে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ খান।
আরও পড়ুন
চিকিৎসা-উদ্ভাবনে ৬৩ বছর পূর্ণ করলো আইসিডিডিআর,বি
আইসিডিডিআর,বি’র জীবনরক্ষাকারী উদ্ভাবনের ঐতিহ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস), বাবল সিপ্যাপ এবং মা ও শিশুর পুষ্টি-সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্ভাবনের মাধ্যমে আইসিডিডিআর,বি লাখো মানুষের জীবন রক্ষা করেছে।
ড. তাহমিদ আহমেদ উদ্ভাবনের জন্য সহায়ক পরিবেশ শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়া এবং উদ্ভাবনী ধারণাগুলোকে কার্যকর স্বাস্থ্যসমাধানে রূপ দেওয়ার জন্য বৈজ্ঞানিক ও ল্যাবরেটরি অবকাঠামোতে প্রবেশাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি এ ব্যবস্থা সহজতর করার জন্য সরকার ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, স্বাস্থ্য কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে মূল্যবান উদ্ভাবন হলো সেটিই, যা রোগীদের বাস্তব সমস্যার সমাধান করে।
আরও পড়ুন
বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারে প্রশিক্ষণ নিলেন ৮ হাসপাতালের ১৬ চিকিৎসক-নার্স
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য গবেষণায় ব্যয়কে শুধু খরচ হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ গবেষক, উদ্ভাবক, সরকারি সংস্থা ও শিল্পখাতকে একত্রিত করেছে।
মেলায় দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কীভাবে বৃহত্তর জনকল্যাণে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময় করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসইউজে/এসএইচএস