গ্যাসের সংকট ও কম চাপকে কাজে লাগিয়ে ‘গ্যাস প্রেশার বুস্টার’ বা ছোট আকারের ‘গ্যাস কম্প্রেসর’ বিক্রি করছে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ। এ সকল অবৈধ এবং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ বিজ্ঞাপন চালিয়ে দেদারসে বিক্রি করছে।
দারাজে পাওয়া এই পণ্যে দাবি করা হচ্ছে, বাসায় গ্যাসের চাপ কম থাকলেও এসব যন্ত্র বসিয়ে রান্নার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। এক হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া এসব যন্ত্রের সঙ্গে এক বছর পর্যন্ত গ্যারান্টি বা সার্ভিস ওয়ারেন্টির কথাও বলা হচ্ছে।
তবে গ্যাসলাইনে এ ধরনের বুস্টার বা কম্প্রেসর ব্যবহারের কোনো অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।
তিতাসের মহাব্যবস্থাপক মো. শাহজাদা ফরাজী গণমাধ্যমকে জানান, গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় কোনো অননুমোদিত যন্ত্র ব্যবহার করা যায় না। কারও ব্যবহৃত কম্প্রেসর অতিরিক্ত গ্যাস টেনে নিলে একই লাইনের অন্য গ্রাহকদের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া এসব যন্ত্রের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তিতাসের হাতে না থাকায় এগুলো ব্যবহারে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে।
তিতাসের ভাষ্য, শুধু ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে না। বাজারে এসব যন্ত্রের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে এবং যে সকল প্রতিষ্ঠান এই ধরনের পণ্য বাজারজাত করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ২০২৬ সালের নতুন গ্যাস বিপণন নিয়মাবলিতেও অননুমোদিত সরঞ্জাম বা বুস্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।
দারাজের মতো অনলাইন মার্কেটপ্লেসের বৈধতা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়ে অনেক ক্রেতা অজান্তেই অননুমোদিত এসব যন্ত্র কিনে ব্যবহার করছেন। ফলে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকিতে থাকছেন। অননুমোদিত যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী জরিমানা থেকে শুরু করে অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে অবৈধ গ্যাস কম্প্রেসর বেচাকেনা এতটাই রমরমা যে, কোনো কোনো বিক্রেতা দিনে ৫০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত কম্প্রেসর বিক্রির দাবি করছে।
গ্যাসের চাপ বাড়ানোর নামে অবৈধ গ্যাস কম্প্রেসর বিক্রির বিষয়টি সামনে আসায় অনলাইন মার্কেটপ্লেসে দারাজে পণ্য তালিকাভুক্তির আগে যাচাই-বাছাই এবং বিক্রিত পণ্যের ওপর নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, দারাজে অবৈধ জিনিস বেচাকেনার ঘটনা এবার নতুন নয়। গত ১৬ আগস্ট দারাজে মাদক বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজনকে আসামি করে রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। এ মামলায় আনিসুর রহমান নামের এক যুবক গ্রেপ্তার হয়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ছিল, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক কেনাবেচার ঘটনায় সংশোধিত আইনের আওতায় এটি প্রথম মামলা।