নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সুইডেন
সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে এক আসনের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বর্তমান পার্লামেন্টের বিরোধীদল তথা মধ্য-বাম জোট। দেশটির ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে জোটটি ১৭৫টি আসন পেতে পারে বলে প্রাথমিক ভোট গণনায় দেখা গেছে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোট পেতে পারে ১৭৪টি আসন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনায় দেশটির ৬ হাজার ৩১২টি নির্বাচনি এলাকার মধ্যে ৪ হাজার ৮৫৩টির ফল গণনার পর এ হিসাব পাওয়া গেছে।
এর আগে সুইডিশ পাবলিক ব্রডকাস্টা টেলিভিশন এসভিটি’র এক্সিট পোলেও মধ্য-বাম জোটকে এগিয়ে রাখা হয়। এতে চারটি দল মিলিয়ে জোটটির ভোট ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ক্ষমতাসীন জোটের ভোট ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ দেখানো হয়। এই জরিপে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ১৩ হাজার ৭০৯ জন ভোটারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, টিভি৪-এর এক্সিট পোলে মধ্য-বাম জোট ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ক্ষমতাসীন জোট ৪৭ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
আরও পড়ুন
এটিএমে পড়ে থাকা ১৯০০ ক্রোনা নিয়ে ৫২ হাজার ক্রোনা জরিমানা
তবে ভোট গণনার সময় দুই জোটের ব্যবধান ছিল খুবই কম। প্রায় অর্ধেক ভোট গণনার সময় এসভিটি’র হিসাবে বিরোধী জোটের ভোট ছিল ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ক্ষমতাসীন জোটের ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ। দুই পক্ষের ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২০ হাজার।
দলভিত্তিক এক্সিট পোলের হিসাবে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি পেয়েছে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। দলটির নেতা ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসন ২০২১ সালে সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন।
প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন জোটের মডারেট পার্টি পেয়েছে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং সুইডেন ডেমোক্র্যাটস পেয়েছে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। ২০২২ সালের নির্বাচনে সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের ভোট ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১০ সালে পার্লামেন্টে প্রবেশের পর এবারই প্রথম দলটির ভোটের হার কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
গত চার বছর ধরে উলফ ক্রিস্টেরসনের সরকারের বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে আসছিল সুইডেন ডেমোক্র্যাটস। নির্বাচনের আগে দলটির নেতা জিমি অকেসন সরকারে মন্ত্রী হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।
এক্সিট পোল অনুযায়ী, লিবারেল পার্টি পেয়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। সুইডেনের পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৪ শতাংশ ভোটের সীমা এবার পার করতে পারে দলটি।
এছাড়া সেন্টার পার্টি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, লেফট পার্টি ৮ শতাংশ, গ্রিন পার্টি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্র্যাটস ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে এক্সিট পোলে উঠে এসেছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গ্রিন পার্টির ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য অ্যালিস বাহ কুনকে বলেন, সুইডিশ জনগণ তাদের বার্তা দিয়েছে এবং তারা ‘টিডো’ নিয়ে ক্লান্ত। ‘টিডো’ হলো বর্তমান সরকারের সঙ্গে সুইডেন ডেমোক্র্যাটসসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সহযোগিতার রাজনৈতিক চুক্তি।
স্টকহোম ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক টমি মোলার সুইডিশ সংবাদ সংস্থা টিটি’র কাছে বলেন, দুই সম্ভাব্য সরকার গঠনের পথের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। এক্সিট পোলের ফল আগের জরিপগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে পরিস্থিতি বেশ স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসনকে লেফট পার্টি ও সেন্টার পার্টিসহ সম্ভাব্য সমর্থনকারী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে। নির্বাচনি প্রচারে জাতীয় নিরাপত্তা, গ্যাং অপরাধ, অভিবাসন ও কল্যাণব্যবস্থায় ব্যয় ছিল গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
সব ভোট গণনা এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সুইডেনের নির্বাচন কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবে।
এমআরএম