
ম্যানচেস্টার ডার্বির রোমাঞ্চ ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত কাঠগড়ায় সেই রেফারিং। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির জয়সূচক গোলটি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে অবশেষে ভুল স্বীকার করেছে প্রিমিয়ার লিগের রেফারিদের সংস্থা প্রফেশনাল গেম অফিশিয়ালস লিমিটেড (প্রো রেফ)। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আর্লিং হলান্ডের দেওয়া গোলটি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত যেভাবে নেওয়া হয়েছে, সে প্রক্রিয়া তাদের বিচারে ভুল।
গতকাল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যাচের ৬০ মিনিটের ঘটনা ছিল এটি। ইয়োস্কো গাভার্দিওলের ক্রসে দূরের পোস্ট থেকে বল জালে পাঠান হলান্ড। কিন্তু সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলেন। এরপর ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) হস্তক্ষেপ করে গোলটি বহাল রাখে। খালি চোখে মনে হয়েছিল প্যাট্রক ডরগুর বুটের অবস্থানের কারণে হলান্ড অফসাইড ছিলেন না। তবে আসল বিতর্ক তৈরি হয় বক্সে সিটি মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের অবস্থান নিয়ে।
#MUNMCI – 59’ VAR OVERTURN
— Premier League Match Centre (@PLMatchCentre) September 13, 2026
VAR checked the referee’s call of no goal for offside – and determined that Haaland was in an onside position and recommended that the goal was awarded.
The VAR also deemed that while in an offside position, Fernandez didn’t play the ball. pic.twitter.com/TyTip3ACIh
হলান্ডের চেয়ে গোললাইনের কাছাকাছি জায়গায় থাকা এনজো হেডের চেষ্টা করেছিলেন। সরাসরি বলে স্পর্শ না লাগলেও তিনি বলের দিকে ডাইভ দেওয়ায় ইউনাইটেড ডিফেন্ডারদের খেলায় প্রভাব পড়েছিল কি না, তা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়।
বিবৃতিতে প্রো রেফ জানায়, ‘এটা নিশ্চিত যে এনজো ফার্নান্দেজ বলে স্পর্শ করেননি। যার ফলে অফসাইড ধরা হবে কি না, তা ছিল রেফারির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে ভিএআর তার (ফার্নান্দেজের) অবস্থানের কারণে খেলায় কী প্রভাব পড়তে পারে, তা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। মাঠের রেফারিকে সিদ্ধান্ত পুনর্নিরীক্ষার (অনফিল্ড রিভিউ) পরামর্শ দেওয়া উচিত ছিল।’

অর্থাৎ প্রো রেফ মনে করছে, এ ক্ষেত্রে ভিএআরের সরাসরি রেফারিকে সিদ্ধান্ত বদলের কথা না বলে সিদ্ধান্ত পুনর্নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া উচিত ছিল।
ভুল স্বীকার করে প্রো রেফ আরও জানিয়েছে, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা আমাদের এ সিদ্ধান্তের ভুলের কথা স্বীকার করেছি। পুরো ঘটনা পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে।’
ম্যাচ শেষে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের ক্ষোভ লুকিয়ে রাখেননি ইউনাইটেড ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। এটাকে তিনি স্পষ্ট ‘অবিচার’ বলে উল্লেখ করেন। ইউনাইটেড ম্যানেজার মাইকেল ক্যারিকও পুরো প্রক্রিয়ায় চরম ‘বিভ্রান্ত’ বলে জানান।
এর আগে ম্যাচের ২৩ মিনিটে সিটির ফিল ফোডেন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় এনজো মারেসকার দল। মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজকে লাথি মারায় রেফারি মাইকেল অলিভার সরাসরি লাল কার্ড দেখান ফোডেনকে।
১০ জনের দল নিয়ে জয় পেলেও সিটির জয়সূচক গোলটি নিয়ে আলোচনা থামছে না। যদিও প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ সেন্টার তাদের এক্স পেজে প্রাথমিক ব্যাখ্যায় বলেছিল, ভিএআর পরীক্ষা করে দেখেছে হলান্ড অনসাইডে ছিলেন এবং এনজো বলে স্পর্শ না করায় গোলটি বৈধ। তবে ফুটবলবোদ্ধাদের বড় অংশই বলছেন, বলে স্পর্শ না করলেও এনজোর ওই মুভমেন্ট ইউনাইটেড রক্ষণের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে।