এশিয়ান গেমস নারী ফুটবলে প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০-০ গোলে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিত মন্তব্য করে আবারও আলোচনায় এসেছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার।
ঋতুপর্ণা, মনিকা চাকমাসহ ৬ জন সিনিয়র খেলোয়াড়কে বাইরে রেখে একাদশ সাজিয়ে প্রথমার্ধেই ৭ গোল হজম করে বসেন পিটার। দ্বিতীয়ার্ধে খেলেন আরো ৩ গোল। নারী ফুটবলে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের লজ্জাজনক রেকর্ড হয়ে থাকলো এই এশিয়ান গেমস।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে পিটার বাটলার তরুণদের সুযোগ দিয়ে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করার কথা বলেছেন।
তবে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসর এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে এই পরীক্ষা-নীরিক্ষা রীতিমতো হাস্যরস তৈরি করেছে ফুটবল অঙ্গনে। পিটার বাটলার যেন বাংলাদেশকে তের বছর পেছনে নিয়ে গেলেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হওয়ার মাত্র ৩ বছর পর ২০১৩ সালে ঢাকায় এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ ৯-০ গোলে হেরেছিল থাইল্যান্ডের কাছে।
অথচ বাংলাদেশ যখন প্রতিপক্ষের জালে ভুরিভুরি গোল দেওয়া শিখলো তখন বাটলারের হাতে পড়ে দলটি যেন ছন্নছাড়া। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর এবার সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের লজ্জা পেলো তারা।
সাবিনা-কৃষ্ণাদের বিদায় করে দিয়ে সেই যে সমালোচনা ডেকে এনেছেন পিটার, তা যেন চলছেই। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে পিটার অভিযোগ করেছেলিন বাফুফের কেউ ফুটবল বোঝেন না।
আবার সেই পিটার বাটলারই সোমবার উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে লজ্জাজনক হারের পর সংবাদ সম্মেলনে ভূয়সী প্রশংসা করলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের। সভাপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশও করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বাফুফে নারী উইংয়ের চেয়ারপার্সন মাহফুজা আক্তার কিরণের কিঞ্চিত সমালোচনাও করলেন।
পিটার বাটলার বলেছেন, \'তরুণ খেলোয়াড় তৈরি ও উন্নতির এই নীতি বাস্তবায়ন করা সঠিক নাকি ভুল? হয়তো নারী উইংয়ের প্রধান আমাদের কাজের এই উন্নয়নমূলক দিকটি পছন্দ করেন না। আর সেটিই আমাদের অন্য একটি আলোচনার দিকে নিয়ে যায়। বাফুফে সভাপতি এই মেয়েদের ব্যাপারে সত্যিই খুব সহানুভূতিশীল ও সমর্থনকারী। আমার এই আড়াই বছরের মেয়াদে উনি আমাকে যে সমর্থন দিয়েছেন, সেটির জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।\'
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ফল নিয়ে পিটারের মূল্যায়ন, \'আমার মনে হয়, যে জিনিসটি আপনাদের মাথায় রাখতে হবে তা হলো- মাঠে আমাদের অনেক তরুণ, সত্যিই খুব অল্প বয়সী খেলোয়াড় ছিল। আমাদের দলে ১৫ বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তাই এখানে এখানে একটা বড় পার্থক্য রয়েছে। অনেকেই হয়তো এসে বলবে যে তরুণ খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমাদের কোনো স্বীকৃত লিগ নেই। আমি কোনো অজুহাত দিচ্ছি না। কারণ আজকের ফলাফলের পুরো দায়ভার আমি নিচ্ছি। কারণ ওরা আমারই খেলোয়াড়। তবে আমাদের দলে দুটি ভিন্ন দল বা বিভাগ রয়েছে। একটি বয়স্কদের গ্রুপ এবং একটি তরুণদের গ্রুপ।\'
দলের কিছু ইস্যু উল্লেখ করে পিটার বাটলার বলেন,\' এখানে কিছু সমস্যা ও ইস্যু রয়েছে। মাঠের বাইরে কী ঘটছে বা না ঘটছে, তা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তবে আমি অকপটে বলবো সভাপতি অত্যন্ত আন্তরিক হলেও অনেকে তা নন। রাতের মাঝপথে খেলোয়াড়দের কল করা, কনফারেন্স কল করা, এভাবে আপনি কখনো একটি দল তৈরি করতে পারবেন না।\'
নিজের ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পিটার বাটলার বলেন, \'আমি পেশাদার ফুটবল কোচ। ইংল্যান্ডে ৫০০ এর বেশি ম্যাচ খেলেছি। আমি কোনো বোকা নই। আমি অনেক জায়গা ঘুরে এসেছি, অনেক জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলের কোচিং করিয়েছি। তাই আমি নির্বোধ নই এবং আমি বুঝি কখন পরিস্থিতি প্রতিকূলে কাজ করে।\'
আজকের এই ফলাফল তরুণ মেয়েদের জন্য দু:খজনক উল্লেখ করে বাটলার বলেছেন, \'এই তরুণ মেয়েগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি এখানে তাদের জন্যই আছি। তবে আমার মনে হয় দ্বিতীয়ার্ধে তারা ভালো খেলেছে। আমি খেলোয়াড়দের চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করেছি। কারণ এটি মাথায় রাখা দরকার, এই ম্যাচের ফলাফল ১-০ বা ১০-০ বড় বিষয় ছিল না। কারণ আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমার ম্যাচ।\'
আরআই/আইএইচএস/