এআই যত দ্রুত এগোচ্ছে, এর ঝুঁকি নিয়ে ততই বাড়ছে উদ্বেগ। তবে, এ উদ্বেগকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান নাকচ করে তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিটির ঝুঁকি নিয়ে কিছু পক্ষ বাড়াবাড়ি করছে।
গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এআইয়ের উন্নয়ন ধীর করার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশ। এআইয়েও চীনের চেয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই এআইয়ে যে দেশ এগিয়ে থাকবে, সেই দেশই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে। একই সঙ্গে এআইয়ের ক্ষেত্রে কিছু নিরাপত্তাবিধি বা নিয়ন্ত্রণ রাখা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, এআই নিয়ে কিছু পক্ষ অযথা ভয় ছড়াচ্ছে এবং এমন সব ঝুঁকির কথা বলছে, যেগুলো বাস্তবে ঘটবে না। এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমানোর জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নতুন করে আহ্বান জানানোর পরই এমন মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন
৯০ বছরের পুরোনো গণিতের সমস্যা ৮৮ ঘণ্টায় সমাধান করল এআই!
এর আগে, গত শনিবার অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোডেই এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। তিনি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার পাশাপাশি এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আরও কাজ করার পরামর্শ দেন।
এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমানোর পক্ষে অ্যামোডেইয়ের সঙ্গে একমত হয়েছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান, গুগল ডিপমাইন্ডের চেয়ারম্যান স্যার ডেমিস হাসাবিস এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।
অ্যামোডেই বলেন, এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুমোদন দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে গোপনে একমত হয়ে কাজ করার অভিযোগে আইনি ঝুঁকিতে না পড়ে, সে জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
ইয়েমেনে অস্ত্র তৈরিতে এআই ব্যবহারের চেষ্টা
পাশাপাশি চীনকেও একই পথে আসতে উৎসাহিত করতে হোয়াইট হাউজের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। চীন এতে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের এআই চিপ রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণেরও পরামর্শ দেন অ্যামোডেই।
এদিকে, এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমে গেলে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগেও প্রভাব পড়তে পারে। এআই প্রযুক্তির প্রসারের কারণে ডেটা সেন্টার নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফলে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামও সম্প্রতি রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে সোমবারের শেয়ারবাজার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সপ্তাহান্তের লেনদেনে প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিক্রির চাপ দেখা গেছে। স্প্রেড-বেটিং প্রতিষ্ঠান আইজির টেক ১০০ সূচক রোববার প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি চিপ নির্মাতা মাইক্রন, মারভেল ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দামও ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
আরও পড়ুন
এআই কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে?
নিউইয়র্কভিত্তিক ফ্রিডম ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রযুক্তি গবেষণা বিভাগের প্রধান পল মিকস বলেন, বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তার মতে, এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমে গেলে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে। আর এআই অবকাঠামো তৈরিতে বিনিয়োগ এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ।
অন্যদিকে, ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে ওপেনএআইয়ের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ বা আইপিও আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এখনই শেয়ারবাজারে আসা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
অ্যানথ্রপিক অবশ্য আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে, সিঙ্গাপুরভিত্তিক অলস্প্রিং গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টসের গ্যারি ট্যান মনে করেন, এআই নিয়ে সম্প্রতি বিতর্কে স্বল্পমেয়াদে বাজারে চাপ তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এআই খাতে বিনিয়োগের ধারা থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফএমডিআরএইচ/