ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর কর্মী হয়ে আমিও কাজে বিশ্বাসী।’
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগর ভবনের সিটি হল সভাকক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
রাসিক প্রশাসক বলেন, ‘নগরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘নগরবাসীর সহযোগিতায় আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও ডেঙ্গুমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত জনসচেতনতা সৃষ্টি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা অন্যান্য পাত্রে পানি জমতে না দিলে এডিস মশার প্রজননস্থল অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।’
রাসিক প্রশাসক নগরবাসীর প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সবাই নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি হিসেবে রাজশাহীর যে সুনাম রয়েছে, তা অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। রাজশাহী মহানগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই।’
নগরীকে আরও সবুজ করতে ইতোমধ্যে দুই লাখ ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি গাছের চারা রোপণ করা সম্ভব হবে।’
রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, কীটতত্ত্ববিদ, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। বাসাবাড়িতে সপ্তাহে একদিন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুইদিন বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।’
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ বলেন, ‘রাজশাহীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। দিনে বা রাতে যেকোনো সময় ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার কামড়ে সংক্রমণ হতে পারে। তাই দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।’
সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির সার্বিক তথ্য উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা এবং বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য কার্যালয়ের কীটতত্ত্বীয় টেকনিশিয়ান মো. আব্দুল বারী। ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাসিকের গৃহীত পদক্ষেপের তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন রাসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু।
মনির হোসেন মাহিন/কেজে/জেআইএম