ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাম্প্রতিক বিবৃতির ভাষা ও বক্তব্যের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।
তিনি দাবি করেছেন, বিবৃতিতে ব্যবহৃত ‘কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ ধরনের ভাষা প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দেশের বাইরে থাকায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সঙ্গে ডাকসুর একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ফরহাদ।
আরও পড়ুন
জিন্নাহর ছবি টাঙানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি
ডাকসু জিএস বলেন, ‘আজ প্রো-ভিসি বলছেন, জিন্নাহর ছবির কারণে নাকি আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা ডাকসুর বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।’
তার দাবি, প্রশাসনের ওই বিবৃতির ভাষা বিএনপির কোনো দলীয় বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ফরহাদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার অতীতের বিভিন্ন সময়ের প্রশাসনিক আচরণের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আরও পড়ুন
ঢাবির তিন ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন, ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন
তার ভাষ্য, ডাকসুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বাংলাদেশের ইতিহাস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ সময় এফএইচ হলের একটি ঘটনা নিয়েও কথা বলেন ডাকসু জিএস। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনায় শিক্ষার্থী ইব্রাহিমকে হলের প্রভোস্টের কক্ষে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
তার দাবি, এ-সংক্রান্ত একটি রেকর্ড বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন
ডাকসু সংগ্রহশালা / জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি নিয়ে প্রশ্নের মুখে যা বললেন ফরহাদ
ফরহাদ আরও প্রশ্ন তোলেন, তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টকে বিভিন্ন কমিটিতে রাখা ও পুরস্কৃত করার কারণ কী? এ বিষয়ে বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলেও সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
ছাত্রদল নেতা হামিমের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ডাকসু জিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয়ের একটি বড় অংশ জনগণের করের অর্থ থেকে আসে।
তার দাবি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মাধ্যমে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষেরাও এই অর্থের জোগানে ভূমিকা রাখেন।
আরও পড়ুন
ঢাবি ছাত্রদল / ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আবেগে আঘাত দিয়েছে
এ সময় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও করেন ফরহাদ। তিনি দাবি করেন, ডাকসুর বর্তমান কার্যক্রমের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের দোকান-ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আগে যে ধরনের অর্থ আদায়ের সুযোগ ছিল, তা এখন বন্ধ হয়েছে। এ কারণে ছাত্রদলের একটি অংশ ডাকসুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ফরহাদ বলেন, ‘চাঁদাবাজির ভাগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আপনাদের এই হতাশা। আপনারা ডাকসুর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন।’
তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্রদল ডাকসুর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি করছে না, কারণ নির্বাচন হলে তারা আবার পরাজিত হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা তফসিল চায় না।
আরটি/বিএ