বাংলাদেশের পোশাক ও জুতা উৎপাদনকারীদের বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে সাভারের ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড) নতুন স্মার্ট ওয়্যারহাউজ চালু করেছে বৈশ্বিক ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স ও ডিজিটাল পরিচয় শনাক্তকরণ প্রতিষ্ঠান অ্যাভেরি ডেনিসন।
অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এ ওয়্যারহাউজ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ‘ম্যানুফ্যাকচারিং ৪.০’ উদ্যোগকে এগিয়ে নেবে।
৮৩০ বর্গমিটারের ওয়্যারহাউজে রয়েছে সাতটি স্বয়ংক্রিয় নির্দেশিত যান, আধুনিক প্যাকিং সফটওয়্যার ও ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। এখানে একসঙ্গে ২৫ হাজার কার্টন রাখা যাবে। প্রযুক্তি ব্যবহারে পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের গতি ৭২ শতাংশ বেড়েছে। আগের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি পণ্য গ্রহণ, দ্বিগুণ দ্রুত পণ্য পাঠানো এবং ৫০ শতাংশ বেশি পণ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং অ্যাভেরি ডেনিসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, এ বিনিয়োগ মার্কিন ব্যবসা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।
বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ২০০৩ সাল থেকে অ্যাভেরি ডেনিসন বেপজার সঙ্গে কাজ করছে। বিনিয়োগের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, জ্ঞান ও উৎপাদন পদ্ধতি বাংলাদেশে আসায় শিল্পের সক্ষমতা ও স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা বাড়ছে। এ ধরনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অ্যাভেরি ডেনিসনের কর্মকর্তারা বলেন, গ্রাহকদের দ্রুত সরবরাহ, প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার চাহিদা বাড়ছে। স্মার্ট ওয়্যারহাউজের মাধ্যমে মজুতের তথ্য সহজে পাওয়া, প্যাকিং, সংরক্ষণ ও পণ্য পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সমন্বিত করা এবং দ্রুত ও প্রয়োজনভিত্তিক সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
ওয়্যারহাউজটি পোশাক ও জুতা কারখানাগুলোকে দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য সেবা দেওয়ার পাশাপাশি পণ্য সংগ্রহে বিলম্ব ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি কমাবে।
অ্যাভেরি ডেনিসনের পোশাক সমাধানের মধ্যে অ্যাম্বেলেক্স, অপটিকা, আরএফআইডি ও অন্যান্য ডিজিটাল পরিচয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তি রয়েছে, যা মজুত ব্যবস্থাপনা, পণ্যের অবস্থান শনাক্তকরণ এবং উৎপাদন থেকে বিতরণ ও খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পণ্যের গতিপ্রবাহ অনুসরণে সহায়তা করবে।
এএসএ