নেত্রকোনার মদনে ছোট বোনকে ছুরিকাঘাত করে বড় বোনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ কিশোরীর নাম বৃষ্টি আক্তার (১৭)। তার ছোট বোন শ্রাবন্তী আক্তারকে (১৩) আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রাবন্তী ও বৃষ্টির বাড়ি উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের পদমশ্রী নওধার গ্রামে। তাদের বাবা আলিম উদ্দিন।
স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে বৃষ্টি, শ্রাবন্তী ও তাদের চার বছর বয়সী ভাতিজা ইমরান বাড়ি থেকে মদন সদরে আসে। বৃষ্টির মদন আদর্শ কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজে নবম শ্রেণির ফরম পূরণ করার কথা ছিল। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে যাওয়ার সময় উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে দুই যুবক তাদের পথরোধ করেন। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে ওই দুই যুবক শ্রাবন্তীর মাথা ও হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে বৃষ্টিকে সঙ্গে তুলে নিয়ে যান।
আহত শ্রাবন্তী পরে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের সামনে পড়ে যায়। চা দোকানি রুবেলসহ কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন
টাকা না পেয়ে সন্তান নিয়ে উধাও মাদকাসক্ত বাবা
চা দোকানি রুবেল মিয়া বলেন, ‘মেয়েটি আহত অবস্থায় আমার দোকানের সামনে এসে পড়ে যায়। পরে আমরা কয়েকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তখন সে অচেতন ছিল।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাফরিন সুলতানা বলেন, ‘শ্রাবন্তীর মাথা ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বোনকে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে।’
শ্রাবন্তীর চাচি দুলেনা আক্তার বলেন, বৃষ্টি নবম শ্রেণির ফরম পূরণ করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরে ঘটনার খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে আসেন। শ্রাবন্তীর জ্ঞান ফিরলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে বলে তিনি জানান।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন করিম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও বৃষ্টিকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি মোবাইলফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এইচ এম কামাল/এসআর/জেআইএম