আন্তর্জাতিক ফুটবলকে গত মাসেই বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। মেসিহীন আর্জেন্টিনা ফুটবল দল পরবর্তীতে কবে কোথায় খেলতে নামবে সে অপেক্ষাতেই ছিল আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা।
সেপ্টেম্বরের শেষ এবং অক্টোবরের শুরুর দিকে দুটি কিংবা তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা- এটা ছিল জানা কথা। তবে কবে, কোন দলের বিপক্ষে খেলতে নামবে তারা- সেটা এতদিন ঠিক করা হয়নি। অবশেষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ও সূচি জানা গেছে।
অক্টোবরে ঘরের মাঠে মোট ৩টি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে একটি সেপ্টেম্বরের শেষদিন, অন্য দুটি অনুষ্ঠিত হবে অক্টোবরে।
জানা গেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর কর্ডোবায় প্রথম খেলবে লাতিন আমেরিকান প্রতিপক্ষ বলিভিয়ার বিপক্ষে। এরপর ৩ অক্টোবর খেলবে এল মনুমেন্টালে আফ্রিকান দেশ বুর্কিনা ফাসোর বিপক্ষে। সর্বশেষ ৬ অক্টোবর, একই মাঠে খেলবে আরেক আফ্রিকান প্রতিদ্বন্দ্বী বেনিনের বিপক্ষে।
আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে এতদিন প্রতিপক্ষ বা সূচি ঠিক না হলেও এর মধ্যেই দল গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলে বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। নতুনদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন পুরোনো মুখকেও আবার দলে ফেরানোর কথা ভাবছেন তিনি। ফলে আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতির আর্জেন্টিনা দলটি হতে পারে বিশ্বকাপের স্কোয়াডের তুলনায় বেশ ভিন্ন।
আর্জেন্টিনার হয়ে আবারও ডাক পেতে পারেন অ্যাস্টন ভিলার এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর তাকে নিয়ে নতুন করে ভাবছেন স্কালোনি। একই সঙ্গে রোমায় যোগ দেওয়া ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দির নামও রয়েছে সম্ভাব্য তালিকায়। চোটের কারণে বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি এই ডিফেন্ডার।
দলে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে সান্তিয়াগো ‘সান্তি’ কাস্ত্রোরও। লোবায় খেলা এই স্ট্রাইকারকে আক্রমণভাগে নতুন একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন আর্জেন্টিনা কোচ। তরুণদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, রিভার প্লেটের কয়েকজন ফুটবলারকেও এবার জাতীয় দলে ডাকা হতে পারে। তবে রিভারের নিয়মিত একাদশের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় থিয়াগো আলমাদা ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে একটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না। বিশ্বকাপ ফাইনালের ঘটনার জেরে তাকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে আসন্ন স্কোয়াডটি বেশ বড় হতে পারে। একাধিক খেলোয়াড়কে পরখ করে দেখার সুযোগ নিতে পারেন স্কালোনি। এমনকি প্রীতি ম্যাচগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন একাদশ খেলিয়ে বিশ্বকাপ-পরবর্তী দলের জন্য নতুন সমন্বয়ও খুঁজে নিতে পারেন তিনি।
বিশ্বকাপজয়ী দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অবশ্য থাকছেন। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ এবং রদ্রিগো ডি পলকে দলে পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও নিষেধাজ্ঞার কারণে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মোলিনা থাকছেন না। পারেদেসের নিষেধাজ্ঞা ১০ ম্যাচের, আর মোলিনার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ৭ ম্যাচের।
এর বাইরে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে রক্ষণভাগে। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি। ফলে তাকেও আর পাওয়া যাবে না। তার অনুপস্থিতিতে রক্ষণভাগের নেতৃত্বের দায়িত্ব ক্রিস্টিয়ান ‘কুটি’ রোমেরোর ওপর আরও বেশি করে পড়তে যাচ্ছে।
রোমেরোকেই এখন আর্জেন্টিনা দলের নতুন নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অধিনায়ক লিওনেল মেসি জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করে ফেলার কারণে রোমেরোই দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিতে পারেন।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ঘিরে মেসিকে নিয়ে। ২১ বছর ধরে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে ইতিহাস গড়া মেসি বিশ্বকাপের ফাইনাল দিয়ে জাতীয় দলের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় শেষ করেছেন। স্পেনের কাছে হারের ম্যাচটিই জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ ছিল কি না, তা নিয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
আসন্ন ফিফা উইন্ডোতে মেসিকে দলে ডাকার সম্ভাবনা অবশ্য কম বলেই মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নাও দেখা যেতে পারে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ককে।
তবে মেসির জাতীয় দলের বিদায় যে বিশ্বকাপ ফাইনালেই হয়ে গেছে, সেটিও নিশ্চিত নয়। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) চায়, দেশের মাটিতে মেসিকে আরও একবার খেলিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাতে। দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পর নিজেদের সমর্থকদের সামনে তাকে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে দেখার সুযোগ করে দিতে চায় এএফএ।
অর্থাৎ মেসির বিদায় আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে। তিনি কবে, কোথায় এবং আদৌ আর জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
এর মধ্যে স্কালোনির নিজের ভবিষ্যৎও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। আর্জেন্টিনা কোচের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফলে আগামী মাসগুলোতে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হবে। এএফএ অবশ্য তাঁকে ধরে রাখতে আগ্রহী এবং বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে স্কালোনির সঙ্গে নতুন করে চুক্তির আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
আইএইচএস/