পটুয়াখালীর পূর্ব মৌকরনে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কাজী মো. রফিকুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্ধার করা এয়ারগান পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে না দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন আহত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী মোছা. মাহমুদা বেগম। তিনি এ ঘটনায় অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মাহমুদা বেগমের দাবি, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিদের বাড়ি থেকে একটি এয়ারগান এবং বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র ও পাঁচ-ছয়টি রামদা উদ্ধার করে। পরে আসামিদের সঙ্গে উদ্ধার করা অস্ত্র থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে ওই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আসামিকে গাড়ি থেকে পটুয়াখালী সদর থানায় নামানোর সময় পুলিশের একজন সদস্যের হাতে উদ্ধার হওয়া ওই অস্ত্রটি রয়েছে। তবে পরবর্তীতে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অস্ত্রটি প্রদর্শন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন মাহমুদা বেগম। ব্রিফিংয়ে শুধু আসামি ও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, রবিউল কাজীর বিরুদ্ধে করা অস্ত্র মামলার (মামলা নম্বর-৫৩১) নথিতেও ওই এয়ারগানের উল্লেখ নেই। উদ্ধার করা অস্ত্র থানায় নেওয়া ও ভিডিওতে দেখার পরও মামলার নথিতে সেটি কেনো উল্লেখ করা হয়নি, এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চান তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে না দেখানো এয়ারগান পুলিশ সদস্যের হাতে
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদা বেগম আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ জুলাই রাতে রফিকুল ইসলামকে রামদা, চায়নিজ কুড়াল ও লোহার রড দিয়ে হামলা করে গুরুতর আহত করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা হয়েছে, যার নম্বর ৫২১।
এ ছাড়া মামলার ৩ নম্বর আসামি রুবেলসহ কয়েকজন এখনও গ্রেফতার হয়নি এবং তারা পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান মাহমুদা বেগম।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযানে থাকা সদর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিদের বাসা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ একটি এয়ারগান পেয়েছিলাম। দেশীয় অস্ত্র সংক্রান্ত একটি মামলা হয়েছে। এয়ারগানের বিষয়টি ওসি সাহেব এবং এসপি সাহেবের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
মাহমুদ হাসান রায়হান/কেজে/এএসএম