জামালপুরের মাদারগঞ্জে ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মিয়াকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মাদারগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সদস্য সচিব আব্দুল হামিদ বুরহান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রাসেল মিয়াকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
রাসেল মিয়া মাদারগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাসেল মিয়াকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে রাসেল মিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়৷
গ্রেফতার অন্যরা হলেন, বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাদাগাড়ী এলাকার ওবিনুর, সেলিম, সুমন ও সুমন ওরফে নুরু মিয়া। তাদের কাছ থেকে চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত দুই মাসে মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৬টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও কৃষকেরা। এসব ঘটনায় মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল কার্যালয় থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়।
পরে পুলিশ তদন্ত করে একটি চক্রের সন্ধান পায়। পরে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার পাঁচজনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল হামিদ বুরহান বলেন, ‘দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এ কারণে সাংগঠনিকভাবে রাসেল মিয়াকে তার পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় বলেন, ‘গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ট্রান্সফরমার চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে। চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত করতে গ্রেফতার ব্যক্তিদের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
হৃদয় আহম্মেদ/কেজে/এএসএম