নতুন একটি অস্ত্র চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে প্রায় ২ হাজার পাউন্ড ওজনের শক্তিশালী বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে গাজায় ফের এসব বোমা ব্যবহারে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে মোট ৪০ হাজার বোমা থাকবে। এর মধ্যে ২০ হাজার এমকে-৮৪ ও ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা রয়েছে।
আরও পড়ুন
হুথিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সহায়তা চাইল সৌদি আরব: রিপোর্ট
পরিকল্পনাটি সম্পর্কে জানেন এমন একজন ব্যক্তিও একই তথ্য জানিয়েছেন। তবে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত চুক্তির বেশির ভাগ অর্থ আসবে বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন কর্মসূচি থেকে। এ কর্মসূচির আওতায় মার্কিন করদাতাদের অর্থ ইসরায়েলকে দেওয়া হয়। পরে, সে অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই অস্ত্র কেনে ইসরায়েল।
এদিকে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এসব বোমা ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন
সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্ক করলো যুক্তরাষ্ট্র
এর আগে ২০২৪ সালে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কায় একই ধরনের বোমার একটি চালান আটকে দিয়েছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। তবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ উদ্যোগ এ অস্ত্র চুক্তি। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলার মধ্যেই নতুন করে এসব অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সেখানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হামলা ও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
আরও পড়ুন
ইরানে ভাঙা পিঠ নিয়ে ৫০ ঘণ্টা, মার্কিন সেনা উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ
প্রায় ২ হাজার পাউন্ড ওজনের এসব বোমার বিভিন্ন ধরন রয়েছে। কিছু বোমা মাটির গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। আবার কিছু বোমা মাটির ওপরে বিস্ফোরিত হয়ে বড় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।
গাজায় ইসরায়েল কোন ধরনের বোমা ও গোলাবারুদ ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে, হামলার ভিডিও ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এসব বোমা ব্যবহার করা হয়েছে।
এসব বোমা হামাসের সুড়ঙ্গগুলোকে নিশানা করে ব্যবহার করা হলেও গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাকেও নিশানা করা হয় বলে জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন
সৌদি আরবে হুথির মুহুর্মুহু হামলা, জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কতা
এর আগে, গত বছর প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের একটি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ওই চুক্তিতে ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা ছিল।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেও ইসরায়েলের জন্য আরও ৬৬৭ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
তবে, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সেখানে বড় ধরনের হতাহত কিছুটা কমেছে। এর মধ্যেই ইসরায়েলকে আবার বিপুল পরিমাণ শক্তিশালী বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এসব অস্ত্র গাজায় ব্যবহার হলে আবারও প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: এপিএমডিআরএইচ/