আগামী ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২৮তম আসর। প্রথম শ্রেণির এই টুর্নামেন্টের সূচিও প্রকাশ হয়েছে ইতিমধ্যে। ঘরের মাঠে আসরের প্রথম ম্যাচে বরিশালের মুখোমুখি হবে খুলনা।
এক সময়ে জাতীয় ক্রিকেটে লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতা খুলনা শেষ পাঁচ আসরে ফিরেছে খালি হাতে। খুলনার জার্সিতে রান বন্যা বইয়ে দেওয়া তুষার ইমরান খেলোয়াড়ি জীবন শেষে এখন দলটির হেড কোচের দায়িত্ব পালন করছেন।
জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে খুলনার সাম্প্রতিক ব্যর্থতা, এবারের আসর, ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা কথা বলেছেন। তার চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে দেওয়া হলো-
জাগো নিউজ: এনসিএলের তো আর বেশিদিন বাকি নেই। খুলনা দলের প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত কেমন চলছে?
তুষার ইমরান: ফিটনেস টেস্ট চলছে। আমরা এখন স্কিল ও ফিটনেস নিয়ে কাজ করছি। ৮ তারিখ থেকে স্কিলের কাজ শুরু করছি। আমাদের সিনিয়র খেলোয়াড়, জাতীয় দলের যারা আছে, তারা সবাই এরই মধ্যে খেলার মধ্যে আছে। তাই স্কিল নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করছি না।
আর যারা মাইনর লিগ থেকে আসছে, তারাও খেলার মধ্যেই আছে। সেখান থেকে আমরা কিছু খেলোয়াড় পাবো না। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ‘এ’ দল আসলে হয়তো তাদের নিয়ে আমরা শুরু করবো। প্ল্যান আছে ২২ তারিখের পরে শুরু করার, আসলে চূড়ান্ত ফিটনেস টেস্ট হওয়ার পরে। এভাবেই মাইনর লিগের খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে আমাদের যে বাকি দল আছে, তাদের নিয়েই মূলত স্কিলের কাজ শুরু করা হয়েছে।
জাগো নিউজ: মাইনর লিগের কথা বললেন। এবার তো প্রথমবারের মতো মাইনর লিগের দ্বিতীয় একাদশের বিষয়টি শুরু হচ্ছে। এই বিষয়টিকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
তুষার: অনেক ভালো হবে। কারণ আমাদের অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা এনসিএলের মূল দলে সুযোগ পায় না। তারা দ্বিতীয় একাদশে খেলার সুযোগ পাবে। এতে আমাদের খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ বাড়বে। আর যারা ভালো করবে, তারা মূল দলে আসার সুযোগ পাবে। এটা ক্রিকেটের জন্য অনেক ভালো একটি উদ্যোগ।
জাগো নিউজ: এনসিএলে একটা সময় খুলনার দাপট ছিল। টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, সর্বোচ্চ শিরোপাও জিতেছে। কিন্তু গত পাঁচ বছরে কোনো শিরোপা নেই…!
তুষার: হ্যাঁ, লাস্ট পাঁচ সিজনে আমাদের কোনো শিরোপা নেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি এবার ভালো কিছু করার। আমাদের টিমে অনেক ভালো প্লেয়ার আছে। তারা যদি সেরাটা দিতে পারে তাহলে আমরা এবার শিরোপা জিততে পারবো।
আর আগে যেমন একটা বিষয় ছিল, এখন হয়তোবা সেটা নেই। আমরা মূলত গত কয়েক বছর ধরে বোলিংয়েই ভুগছি। আমাদের কোয়ালিটি পেসার ও স্পিনার আসছে না। রাজ (আব্দুর রাজ্জাক) অবসরে যাওয়ার পর আর কোনো কোয়ালিটি স্পিনার পাইনি। মিরাজকেও জাতীয় দলের ব্যস্ততায় পাওয়া যায় না। রুবেল, মোস্তাফিজদের মতো পেসারও আর আসেনি। এই জায়গাতেই আমরা ভুগছি।
জাগো নিউজ: খুলনা অঞ্চল থেকে শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেটার উঠে আসার গতিটাও একটু কমে গেছে কিনা…!
তুষার: এটা আসলে সময়ের ব্যাপার। অস্ট্রেলিয়াও তো এক সময়ে টানা শিরোপা জিতেছে, অনেক খেলোয়াড় বের হয়েছে। এক সময় খুলনারও অনেক প্লেয়ার ন্যাশনাল টিমে খেলত। এখন হয়তো একটু কমে গেছে। তবে আমাদের অনেক ভালো ভালো প্লেয়ার উঠে আসছে। তারা যদি ভালো করতে পারে তাহলে আবার খুলনার প্লেয়াররা ন্যাশনাল টিমে দাপট দেখাবে। যদিও এখনো তো অনেকেই আছে- মিরাজ, মেহেদীরা খেলছেন।
জাগো নিউজ: এনসিএলে এবার থেকে নতুন একটা বিষয় শুরু হচ্ছে- ব্যাগি ক্যাপ দেওয়া। এটাকে কিভাবে দেখছেন?
তুষার: এটা অনেক ভালো একটা উদ্যোগ। ব্যাগি ক্যাপ পাওয়াটা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই একটা বড় সম্মানের বিষয়। এটা প্লেয়ারদের অনেক অনুপ্রাণিত করবে। কারণ ব্যাগি ক্যাপ পাওয়াটা অনেক সম্মানের ব্যাপার। এটা প্লেয়ারদের মধ্যে একটা আলাদা অনুভূতি তৈরি করবে। ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটের একটা অন্যরকম ট্র্যাডিশন আছে। যখন একজন তরুণ প্লেয়ার তার নিজের দলের ক্যাপটা হাতে পায়, তখন তার মধ্যে একটা দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। অবসরের পর তাদের জন্য একটা স্মৃতি হয়ে থাকবে, যে দেশের শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলেছিল এক সময়।
জাগো নিউজ: এনসিএলের ম্যাচ ফিও এবার দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এনসিএল নিয়ে অনেক সময় অনেক কথা হয়। ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করায় এবার এনসিএলের সেই সুনামটা ফিরবে কি না?
তুষার: এটা অবশ্যই একটা বড় ইতিবাচক দিক। খেলোয়াড়দের যখন আর্থিক সিকিউরিটি তৈরি হয়, তখন তারা শতভাগ খেলায় মনোযোগ দিতে পারে। বোর্ডকে ধন্যবাদ এই উদ্যোগটার জন্য। ম্যাচ ফি বাড়ায় ঘরোয়া ক্রিকেটের মান এবং প্রতিযোগিতা দুই-ই বাড়বে।
জাগো নিউজ: ঘরোয়া লিগ আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে যে পার্থক্য, এই ব্যবধানটা পূরণ করার কোনো উপায় আছে কি?
তুষার: ঘরোয়া লিগ আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে পার্থক্য তো থাকবেই। এটা সব দেশেই থাকে। তবে আমাদের দেশে হয়তো একটু বেশি। এটা কমানোর জন্য উইকেটের মান ভালো করতে হবে, বল ভালো করতে হবে, খেলোয়াড়দেরও আরও নিবেদিত হতে হবে।
জাগো নিউজ: এবার এনসিএলের বলও পরিবর্তন হচ্ছে। এর আগে যে বলগুলো ছিল, তাতে ব্যাটারদের জন্য রান করা একটু চ্যালেঞ্জিং হতো। এবার বল পরিবর্তনের কোনো প্রভাব পড়বে কি?
তুষার: বল পরিবর্তন হলে তো অবশ্যই একটা প্রভাব পড়বে। তবে স্পিনাররা কতটা সুবিধা পাবে, সেটা উইকেটের ওপর নির্ভর করবে। আমাদের দেশে যেটা হচ্ছে, এটা আসলে উইকেটের ওপর নির্ভর করবে। উইকেট কেমন হয়, সেটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। এটা আসলে এখনই বলা মুশকিল। স্পিনাররা হয়তো সুবিধা পাবে, ফাস্ট বোলাররা..., দেখা যাক কেমন হয়।
জাগো নিউজ: একটা নির্দিষ্ট প্রশ্ন করি। এ বছর খুলনাকে আসলে কোথায় দেখতে চান? আপনাদের লক্ষ্যটা কী?
তুষার: লক্ষ্য তো অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তবে আমরা ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চাই। আমাদের দল ভালো আছে। দেখা যাক কী হয়।
জাগো নিউজ: আপনি তো দীর্ঘদিন এনসিএল খেলেছেন, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হাজার হাজার রান করেছেন। একটা সময় খেলোয়াড় হিসেবে এত রান করেছেন, এখন কোচ হিসেবে দল চালাচ্ছেন। কোন ভূমিকাটা আপনার কাছে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে?
তুষার: দুটোই চ্যালেঞ্জিং। তবে কোচিংটা হয়তো একটু বেশি। কারণ এখানে তো আর নিজে খেলে দেওয়া যায় না। খেলোয়াড়দের দিয়ে খেলাতে হয়। এটা একটা অন্যরকম চ্যালেঞ্জ। খেলোয়াড় হিসেবে দায়িত্ব শুধু নিজের পারফরম্যান্সের ওপর থাকে। কিন্তু কোচ হিসেবে পুরো টিমের পারফরম্যান্স, স্ট্র্যাটেজি এবং প্লেয়ারদের মেন্টাল দিকটা সামলাতে হয়। ফলে কোচিং ভূমিকাটা অবশ্যই বেশি চ্যালেঞ্জিং, তবে আমি এটা দারুণ উপভোগ করছি।
জাগো নিউজ: প্রথম ম্যাচ তো খুলনায় বরিশালের বিপক্ষে। ওই ম্যাচটা কেমন হবে বলে মনে হচ্ছে?
তুষার: প্রথম ম্যাচটা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভালো শুরুর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব।
এসকেডি/আইএইচএস