কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল রানাকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
এসআরবি বলছে, হত্যার শিকার মো. জহির (২০) ও আসামি সোহেল রানা এলাকার প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। পরে স্থানীয় এক মাদক কারবারির সঙ্গে পরিকল্পনা করে জহিরকে তারা সাভারের হেমায়েতপুরে ঘুরতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সময় তাকে হত্যা করা হয়। পরে গুম করার জন্য মরদেহ ছয় টুকরো করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দেওয়া হয় পার্শবর্তী একটি নদীর বিভিন্ন স্থানে।
এ ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা কারাগারে থাকলেও ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন তিনি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের তালা ভেঙে ও কারারক্ষীদের আহত করে পালিয়ে যান।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার এসআরবি-৪ মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীটির পদাতিক অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান।
আরও পড়ুন
হাইসিকিউরিটি কারাগার ভেঙে পলাতক আসামি গ্রেফতার
তিনি বলেন, এসআরবি-৪ এর আভিযানিক দল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানাধীন আজিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বহুল আলোচিত জহির হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পলাতক আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতার সোহেল রানা ও হত্যার শিকার জহির একই এলাকার প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। জহিরের সঙ্গে স্থানীয় শীর্ষ মাদক কারবারি মো. সুলতানের দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু সোহেল রানাসহ কয়েকজনের মাধ্যমে জহিরকে পরিকল্পিতভাবে হেমায়েতপুরে ঘুরতে নিয়ে আসে সুলতান। পরে বাড়ি ফেরার সময় তাকে হত্যা করা হয়। এরপর গুম করার জন্য মরদেহ ছয় টুকরো করে পার্শবর্তী নদীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় জহিরের বাবা বাদী হয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত ২০১৯ সালে আসামি সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ড সাজা দেয় এবং কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কাশিমপুর কারাগার থেকে পালিয়ে যায় সোহেল। পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেকে আত্মোগোপনে রেখে বসবাস করে আসছিল।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
কেআর/এমকেআর