বিছানার পাশে বা নাইটস্ট্যান্ডে প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখা অনেকের কাছেই বেশ সুবিধাজনক। বিশেষ করে নিয়মিত কোনো ওষুধ খেতে হলে ঘুম থেকে উঠে বা রাতে সহজেই যেন হাতের কাছে পাওয়া যায়, সে জন্য অনেকে ওষুধের পাতা বা ওষুধের বক্স বিছানার পাশেই রেখে দেন। কিন্তু সুবিধাজনক মনে হলেও ওষুধ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ কোথায় এবং কীভাবে রাখা হচ্ছে, তা ওষুধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। বেশিরভাগ ওষুধের জন্য ঠান্ডা, শুষ্ক জায়গা উপযোগী হলেও নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের আলাদা সংরক্ষণ নির্দেশনা থাকতে পারে। তাই ওষুধের প্যাকেট বা লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
ভুল ওষুধ বা অতিরিক্ত ডোজের ঝুঁকি
রাতে ঘুমের ঘোরে বা অন্ধকারে ওষুধ খাওয়ার সময় ভুল হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। বিশেষ করে একই জায়গায় একাধিক ওষুধের পাতা রাখা থাকলে একটি ওষুধের বদলে অন্যটি নেওয়া কিংবা নির্ধারিত ডোজের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলার ঘটনা ঘটতে পারে। আবার বিভিন্ন ওষুধে একই সক্রিয় উপাদান থাকতে পারে, ভুলভাবে একাধিক ওষুধ গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ডোজের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে নাম, ডোজ ও ব্যবহারের নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি।
রাতে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হলে অন্ধকারে হাতড়ে ওষুধ না খেয়ে আলো জ্বালিয়ে প্যাকেটের নাম ও ডোজ দেখেখেওেত হবে। বিশেষ করে একাধিক ওষুধ খেলে এই অভ্যাস আরও গুরুত্বপূর্ণ।
তাপ ও আর্দ্রতায় নষ্ট হতে পারে ওষুধ
সব ওষুধ একই পরিবেশে সংরক্ষণ করা যায় না। কিছু ওষুধ অতিরিক্ত তাপ, আর্দ্রতা বা আলোতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ওষুধ সাধারণত ঠান্ডা ও শুষ্ক জায়গায় রাখা উচিত, যদি না লেবেলে অন্য কোনো সংরক্ষণ নির্দেশনা দেওয়া থাকে। অতিরিক্ত তাপ বা অনুপযুক্ত সংরক্ষণে কিছু ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায়।
তাই বিছানার পাশে জানালার সরাসরি রোদ, অতিরিক্ত গরমের উৎস বা আর্দ্র জায়গা থাকলে সেখানে ওষুধ রাখা ঠিক নয়। এসি বা ঘরের স্বাভাবিক আলোই কিছু ওষুধ নষ্ট করে দিতে পারে। ওষুধের লেবেলে দেওয়া সংরক্ষণ নির্দেশনাই
শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখুন
বাড়িতে শিশু থাকলে বিছানার পাশে খোলা জায়গায় ওষুধ রাখা আরও ঝুঁকিপূর্ণ। রঙিন ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল দেখে শিশু কৌতূহলবশত তা মুখে দিয়ে ফেলতে পারে। এমনকি শিশুরা না পৌঁছালেও বিছানা বা টেবিল সরানোর সময় ওষুধ নিচে পড়ে যেতে পারে।
এফডিএ-এর পরামর্শ হলো, ওষুধ শিশুদের দৃষ্টির বাইরে ও নাগালের বাইরে নিরাপদ জায়গায় রাখা এবং ব্যবহারের পর প্যাকেট বা কৌটো ভালোভাবে বন্ধ করে রাখা। পোষা প্রাণীর ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। মেঝেতে পড়ে থাকা একটি ট্যাবলেটও তাদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
পানির গ্লাসের পাশেও সাবধান
অনেকে রাতে ওষুধ খাওয়ার সুবিধার জন্য বিছানার পাশে পানির গ্লাসের সঙ্গে ওষুধও রেখে দেন। এতে হাত লেগে পানি পড়ে ওষুধের প্যাকেট বা ট্যাবলেট ভিজে যেতে পারে। পানি বা আর্দ্রতার সংস্পর্শে কিছু ওষুধের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এফডিএ--ও ওষুধকে আর্দ্রতা ও পানির ক্ষতি থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়।
তবে খোলা পানির গ্লাসে রাতভর ‘ব্যাকটেরিয়া জমে গিয়ে ওষুধ খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। তাই মূল সতর্কতা হওয়া উচিত পানি পড়ে ওষুধ ভিজে যাওয়া এবং ওষুধের সংরক্ষণ ঠিক রাখা।
ওষুধ রাখবেন যেখানে
বিছানার পাশে খোলা অবস্থায় না রেখে ওষুধ এমন একটি ঠান্ডা, শুষ্ক ও নিরাপদ জায়গায় রাখুন, যেখানে শিশু বা পোষা প্রাণী পৌঁছাতে পারে না। ওষুধের লেবেলে যদি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, আলো বা ফ্রিজে রাখার নির্দেশনা থাকে, সেটিই অনুসরণ করুন।
আরও পড়ুন
গরম ডাল-ভাতে লেবু মেশালে ভিটামিন সি থাকে তো?
সম্ভব হলে প্রতিটি ওষুধ তার মূল প্যাকেট বা কৌটার মধ্যেই রাখুন। এতে ওষুধের নাম, ডোজ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং ব্যবহারের নির্দেশনা সহজে দেখা যায়। বিভিন্ন ওষুধ একসঙ্গে একটি অচেনা কৌটায় মিশিয়ে রাখা উচিত নয়।
আরও পড়ুন
প্রথম সন্তান আসার পর নতুন বাবাদের অভিজ্ঞতা কেমন হয়?
আর রাতে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হলে আলো জ্বালিয়ে নাম ও ডোজ নিশ্চিত করে তারপর সেবন করুন। কোনো ওষুধ ভুল করে বেশি খেয়ে ফেললে বা শিশু ওষুধ খেয়ে ফেললে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ বা স্থানীয় জরুরি চিকিৎসা নিয়ন্ত্রণ সেবার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএকেওয়াই