ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেছেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা না গেলে শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য নগরবাসীকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নগরের কাজীর দেউরী মোড়ে চসিকের মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, এডিস মশা জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেও বংশবিস্তার করতে পারে। বাসাবাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, ডাবের খোসা, প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেগুলো এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে। তাই নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার করতে হবে এবং কোনো পাত্রে পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের বিভিন্ন সেরোটাইপের উপস্থিতি ও পরিবর্তন নিয়ে দেশে গবেষণা ও জিনগত বিশ্লেষণ চলছে। চলতি বছর বাংলাদেশে ডেনভি-থ্রি সেরোটাইপের আধিক্যের কথা বিভিন্ন স্বাস্থ্য গবেষণা ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
ডা. শাহাদাত বলেন, ডেঙ্গু শুধু সিটি করপোরেশনের একার সমস্যা নয়। এটি মোকাবিলায় নগরবাসীকেও দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছি। কিন্তু নাগরিকরা যদি বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে দেন, ময়লা-আবর্জনা এবং প্লাস্টিক-পলিথিন যত্রতত্র ফেলেন, তাহলে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে থাকবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ডেঙ্গুতে যেন কোনো মানুষের মৃত্যু না হয়। এজন্য চসিকের কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিন দিনে একদিন জমে থাকা পানি ফেলে দিন। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন।’
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র আরও বলেন, ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন যেখানে-সেখানে ফেলা যাবে না। পানি জমতে দেওয়া যাবে না। নিজের ঘর, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।
চসিকের জনসংযোগ শাখা জানায়, ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম, লার্ভিসাইড প্রয়োগ, ক্রাশ প্রোগ্রাম ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি চসিক জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ‘ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল’ চালু করা হয়েছে।
এ সময় চসিকের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআরএএইচ/এমএএইচ/