
১৮ কোটি মানুষ, ১৯ লাখ সরকারি পদ, তবু কেন ছুটছি আমরা? বাংলাদেশের বর্তমান পটভূমিতে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হলেই একটি দৃশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে—বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারে বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) প্রস্তুতি বইয়ের স্তূপ, কোচিং সেন্টারের দীর্ঘ সারি, আর তরুণদের চোখেমুখে একটিই স্বপ্ন—‘যেকোনো একটি ক্যাডার পেতেই হবে।’
দেশের শ্রমবাজার–সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ও যাচাইকৃত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে এই আকাঙ্ক্ষার পেছনের বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সংখ্যায় বাংলাদেশের চাকরির বাজার
প্রতিবছর দেশের পাবলিক, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলো থেকে চার–পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেন। (শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের হালনাগাদ তথ্যভিত্তিক প্রাক্কলন)
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে মোট বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২৪ হাজার, যার মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা ৮ লাখ ৮৫ হাজার। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় চার লাখ, অর্থাৎ আট বছরে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। (সূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪, চূড়ান্ত প্রতিবেদন)
প্রতিবছর সরকারি চাকরি পান কতজন
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলিয়ে প্রতিবছর গড়ে ২০ থেকে ৪০ হাজার জন সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। (বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিভিত্তিক প্রাক্কলন)
বিসিএস পরীক্ষায় প্রতিবার গড়ে ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। বিপরীতে ক্যাডার পদ থাকে গড়ে মাত্র তিন থেকে পাঁচ হাজার। অর্থাৎ চূড়ান্তভাবে ক্যাডার পদে টেকার সাফল্যের হার প্রায় ১ শতাংশ বা তারও কম। (সূত্র: বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) বিভিন্ন বিসিএস বিজ্ঞপ্তি ও ফলাফলভিত্তিক তথ্য)
বাংলাদেশে মোট সরকারি চাকরির পদ
জাতীয় সংসদে (জুলাই ২০২৬) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেশের সরকারি অফিসগুলোয় মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২।
একই তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ কর্মকর্তা–কর্মচারী কর্মরত।
বিপরীতে শূন্য পদের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২। শূন্য পদ পূরণে সরকার ছয় মাস, এক বছর ও পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। সূত্র: জাতীয় সংসদ অধিবেশন, জুলাই ২০২৬; জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর বক্তব্য (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, জাগো নিউজ২৪, যুগান্তর)
উল্লেখ্য, শূন্য পদের সংখ্যা সময়–সময়ে পরিবর্তিত হয়। এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যে এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ ও সংসদীয় তথ্য একত্রে যে চিত্র তুলে ধরে, তা স্পষ্ট—একদিকে লাখ লাখ উচ্চশিক্ষিত তরুণ কর্মসংস্থানের অপেক্ষায়, অন্যদিকে বিসিএসের মাত্র কয়েক হাজার পদের জন্য প্রতিবছর লাখো পরীক্ষার্থীর তীব্র প্রতিযোগিতা।
দেশের উদীয়মান বেসরকারি খাত দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। তৈরি পোশাকশিল্প, বহুমুখী করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, বহুজাতিক কোম্পানি ও স্টার্টআপ—এসব খাতে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের কাজের সুযোগ, তুলনামূলক উচ্চ বেতন ও দ্রুত পদোন্নতির সম্ভাবনা। তবু কেন দেশের সিংহভাগ মেধাবী তরুণ–তরুণী ও তাঁদের পরিবার বিশাল ঝুঁকি নিয়ে বেসরকারি খাতকে পাশ কাটিয়ে বিসিএস পরীক্ষাকে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও কাঠামোগত কারণ।
১. সরকারি চাকরির প্রতি প্রবল আকর্ষণের মূল ভিত
১.১ চাকরির স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা
সরকারি বা বিসিএস চাকরির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো চাকরির নিরাপত্তা। অর্থনৈতিক সংকট, মন্দা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের সময়েও সরকারি চাকরি হারানোর ঝুঁকি প্রায় থাকে না, যেখানে বেসরকারি খাতে যেকোনো সময় ছাঁটাই বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়।
এর পাশাপাশি পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো অবসরকালীন–সুবিধা পরিবারকে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা দেয়। অবসরের পরও নিয়মিত আয় ও চিকিৎসার সুযোগ–সুবিধা থাকায় তরুণেরা সরকারি খাতকে জীবন গঠনের নিরাপদ আশ্রয় মনে করেন।
১.২ সামাজিক মর্যাদা ও প্রশাসনিক প্রভাব
বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতিতে প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রতি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। বিসিএস ক্যাডার হওয়া মানে সমাজে দ্রুত বিশেষ পরিচিতি, প্রভাব ও মর্যাদা অর্জন করা। সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের যে সুযোগ সরকারি চাকরিতে মেলে, তা অন্য খাতে তুলনামূলক কম। পারিবারিক ও বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সরকারি চাকরিজীবী পাত্র–পাত্রীর সামাজিক গুরুত্ব এখনো তুলনামূলক বেশি বলে বিবেচিত হয়।
১.৩ কাজের চাপ ও ওয়ার্ক–লাইফ ব্যালান্স
বিসিএসের কিছু ক্যাডারে (যেমন: প্রশাসন বা পুলিশ) কাজের চাপ যথেষ্ট বেশি হলেও সার্বিকভাবে সরকারি খাতে কাজের সময়সীমা, ছুটির নিয়মাবলি এবং উৎসব ভাতার সুনির্দিষ্টতা থাকে, যা অনেকের কাছে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ করে তোলে।
১.৪ সাংস্কৃতিক মনস্তত্ত্ব ও পারিবারিক প্রত্যাশা
বাংলাদেশে বহু প্রজন্ম ধরে একটি ধারণা গভীরভাবে প্রোথিত, ‘সরকারি চাকরি মানেই জীবনের পরম সাফল্য।’ বিশ্ববিদ্যালয়–জীবনের শুরু থেকেই অনেক পরিবার সন্তানকে বিসিএস প্রস্তুতির দিকে ঠেলে দেয়। বেসরকারি চাকরিতে বেতন বেশি হলেও সরকারি চাকরির সামাজিক ভিত্তি অনেক পরিবারের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, যা তরুণদের মনে শুরু থেকেই বিসিএস–কেন্দ্রিক লক্ষ্য তৈরি করে দেয়।
২. বেসরকারি চাকরির প্রতি অনাগ্রহের কারণ
২.১ চাকরির অনিশ্চয়তা ও সীমিত সুবিধা
বেসরকারি খাতের বড় দুর্বলতা হলো আপেক্ষিক অনিশ্চয়তা। ব্যবসায়িক মন্দা, প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন বা অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা বেসরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গী হয়ে থাকে। দেশের অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য পেনশনের সুবিধা না থাকায় অবসর–পরবর্তী জীবন নিয়ে দুশ্চিন্তা তরুণদের এই খাত থেকে দূরে রাখে।
২.২ উচ্চ মানসিক চাপ ও পারফরম্যান্স–নির্ভরতা
বেসরকারি চাকরিতে প্রতিনিয়ত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে টিকে থাকতে হয়। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, বাড়তি সময় কাজ করা এবং ক্রমাগত মানসিক চাপ সামলানো অনেকের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। অনেক প্রতিষ্ঠানে বাড়তি কাজের যথাযথ স্বীকৃতি না মেলায় কর্মীরা পেশাগত ক্লান্তির (বার্নআউট) মুখোমুখি হন।
২.৩ সামাজিক স্বীকৃতিতে ব্যবধান
তুলনামূলক উচ্চ বেতন ও আধুনিক কর্মপরিবেশ থাকা সত্ত্বেও সমাজের একটি বড় অংশ এখনো বেসরকারি চাকরিকে পূর্ণ স্থিতিশীল পেশা হিসেবে দেখতে দ্বিধাবোধ করে। এই সামাজিক ব্যবধান অনেক তরুণের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে।
৩. একনজরে: বিসিএস/সরকারি বনাম বেসরকারি চাকরি (কার্ড যাবে)
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: ns@prothomalo.com
৪. শ্রমবাজারের ওপর এই প্রবণতার প্রভাব
মেধার অপচয় ও দীর্ঘ বেকারত্ব: বহু উচ্চশিক্ষিত তরুণ জীবনের কয়েক বছর বিসিএস প্রস্তুতির পেছনে ব্যয় করেন। একাধিকবার চেষ্টার পর বয়সসীমা পেরিয়ে গেলে বেসরকারি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে।
দক্ষতার ঘাটতি (স্কিলস মিসম্যাচ): করপোরেট খাতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা অর্জনের বদলে সাধারণ জ্ঞানকেন্দ্রিক প্রস্তুতিতে সময় ব্যয় হওয়ায় বেসরকারি খাত উপযুক্ত দক্ষ জনবলের ঘাটতিতে ভোগে।
উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা মানসিকতার সংকোচন: তরুণদের প্রধান লক্ষ্য যখন চাকরির নিরাপত্তা অর্জন হয়ে ওঠে, তখন নতুন কিছু সৃষ্টি বা ঝুঁকি নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ তুলনামূলক কমে যায়।
৫. উত্তরণের উপায় ও করণীয়
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সুসংহত করতে এবং তরুণদের মেধার সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ভারসাম্য আনা জরুরি।
বেসরকারি খাতে সুরক্ষা আইন প্রণয়ন: চাকরিজীবীদের জন্য আইনি সুরক্ষা, সুনির্দিষ্ট বেতনকাঠামো, ছাঁটাই নীতিমালা ও ন্যূনতম অবসরকালীন সুবিধা (যেমন: বাধ্যতামূলক কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি) নিশ্চিত করা।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: সরকারি চাকরিই সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড নয়—এই বোধ তৈরিতে গণমাধ্যম ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।
শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন: তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবহারিক দক্ষতা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া।
বেসরকারি খাতে সুস্থ কর্মপরিবেশ: অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কমানো, ন্যায্য মূল্যায়ন ও কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে অধিকতর আকর্ষণীয় করে তোলা।
শেষ কথা
বাংলাদেশে বিসিএস চাকরির প্রতি তরুণদের প্রবল আকর্ষণের পেছনে মূলত কাজ করে সামাজিক স্থিতিশীলতা, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা। অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও সামাজিক স্বীকৃতির ঘাটতির কারণেই বেসরকারি খাতে নানা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তরুণদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠতে পারছে না।
দেশকে এগিয়ে নিতে যেমন একটি দক্ষ ও মেধাভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন একটি শক্তিশালী, উদ্ভাবনী ও সমৃদ্ধ বেসরকারি খাত। বেসরকারি খাত যদি চাকরির স্থিতিশীলতা, অবসরকালীন নিরাপত্তা ও উপযুক্ত সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে পারে, তবেই দেশের মেধা একটিমাত্র প্রতিযোগিতার পেছনে না ছুটে বহুমুখী খাতে বিস্তৃত হতে পারবে।
তথ্যসূত্র
১. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪, চূড়ান্ত প্রতিবেদন।
২. জাতীয় সংসদ অধিবেশন, জুলাই ২০২৬; জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর বক্তব্য (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা, জাগো নিউজ২৪, যুগান্তর)।
৩. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, এপ্রিল–জুন ২০২৬ হালনাগাদ শূন্য পদ–সংক্রান্ত তথ্য (প্রথম আলো, সময় নিউজ, সময়ের আলো)।
৪. বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), বিভিন্ন বিসিএস বিজ্ঞপ্তি ও ফলাফল–সংক্রান্ত তথ্য।
৫. ‘শুধু ২০২৩ সালে নতুন বেকার ১ লাখ স্নাতক’, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।