বান্দরবানের লামায় উপজেলায় থানছি ডিমপাহাড় সীমান্তবর্তী অত্যন্ত দুর্গম রূপসীপাড়া ইউনিয়নের “তংপং ম্রো পাড়ায়” তিন দিনব্যাপী বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় সম্প্রসারিত টিকাদান (ইপিআই) কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে মার্কিন সরকারের পরারষ্ট্রের মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা গ্রীন হিল এর ‘এমআইএইচআর’ প্রকল্পের সহযোগিতায় গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ কর্মসূচী পরিচালিত হয়। কর্মসূচির ৮৮ জন নারী ও শিশুসহ ম্রো জনগোষ্ঠীদের বীনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএএফপিও) ডা. গোলাম মোস্তাফা নাদিম নির্দেশনায় স্বাস্থ্য সহকারী ফিলীপ ম্রো নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসহকারী মো. মিজানুর রহমান এবং গ্রীন হিল এনজিও-র প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়ক মংছিংপ্রু মার্মা।
স্বাস্থ্যকর্মীদের এই দলটি অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়, উঁচু-নিচু পাহাড়িপথ ও ঝিরি অতিক্রম করে তংপং ম্রো পাড়ায় পৌঁছায়। সেখানে স্থানীয় শিশু ও নারীদের যক্ষ্মা, পোলিও, হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ম্যালেরিয়া পরীক্ষা, গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সেবা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সচেতনতায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এমটিইপিআই মো. গোলাম মোস্তফা জানান, তংপং ম্রো পাড়াটি থানছি ডিমপাহাড় সংলগ্ন রূপসীপাড়া ইউনিয়ন শেষ জনপদ। ওখান জনগোষ্ঠীরা দূর্গম বসবাস করেন বলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস মিটিয়ে থাকেন থানছি বাজারে গিয়ে। পায়ে হেটে পাহাড়ী উচু-নিচু রাস্তায় লামা বাজারে আসতে হলে তাদের ৫-৬ ঘন্টা সময় প্রয়োজন। আর গাড়ি যোগে আসতে হলে আলীকদম উপজেলা হয়ে আসতে হবে, এতে তাদের পক্ষে আর্থিকভাবে অনেক টাকা খরচ করতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক সমীরণ বড়ুয়া জানান, আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীরা যক্ষা, পোলিও, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে এই দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম আওতায় এই সেবা পৌঁছে থাকে। তাদের এই সাহসিকতা ও আন্তরিকতা প্রশংসনীয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তাফা নাদিম বলেন, “ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে পার্বত্য এলাকার যেসকল শিশু ও নারী নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচী থেকে বঞ্চিত হয়, তাদের শতভাগ টিকার আওতায় আনতেই এই বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”