
আজ ৩৩ সেপ্টেম্বর। প্যারালাল বিশ্বে বাংলাদেশ পর্যটন সংসদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে হেরে যাওয়া জোটের জন্য আজ এক ঐতিহাসিক দিন। তারা আয়োজন করেছে বিশাল লং ড্রাইভ। উদ্দেশ্য, দেশের ভেঙে পড়া পর্যটনশিল্পকে আবার চাঙা করা এবং পরিবেশদূষণ রোধ করতে নির্বাচিত কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
ভোর পাঁচটা বাজতেই রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জড়ো হয়েছে কয়েক শ গাড়ির বহর। ফাঁকে ফাঁকে অসংখ্য ট্রাকও দেখা যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এ বহর সুন্দরবনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। জোটের নেতাদের কেউ কেউ গাড়িতে, কেউ কেউ কর্মীদের সঙ্গে ট্রাকে। কারও কারও হাতে শোভা পাচ্ছে প্ল্যাকার্ড। সেগুলোতে দেশের মানুষের বিভিন্ন দাবিদাওয়া লেখা। কিছু গাড়িতে কাপলদেরও দেখা যাচ্ছে। কেউ তার স্ত্রীর সঙ্গে, কেউ মেয়েবন্ধুর সঙ্গে। কেউ কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে গাড়িতে বসে গল্প করছে।
এবারের লং ড্রাইভ বিশেষ একটি কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রথমবারের মতো সাধারণ জনগণ এতে অংশ নিচ্ছে। এ জন্য তাদের অনলাইনের মাধ্যমে আগেই নিবন্ধন করতে হয়েছে। তবে সবাই নয়, কেবল ভ্রমণপ্রেমী কাপল ও বন্ধুদের গ্রুপগুলো প্রাধান্য পেয়েছে। নিবন্ধন ফরমে ‘নাম’, ‘ফোন নম্বর’, ‘পেশা’ ইত্যাদির পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—
‘আপনি কি ভ্রমণপিপাসু?’
অপশন: হ্যাঁ/না। ‘না’ হলে ‘অযোগ্য’।
‘হ্যাঁ’ দিলে পরের প্রশ্ন ছিল—
‘আপনার সঙ্গে কে যাবেন?’
অপশন: স্ত্রী, প্রেমিকা, বন্ধু, ভাই-বোন অথবা ‘এখনো কাউকে ঠিক করিনি’।
শেষের অপশনটিতে যে টিক দিয়েছে, সে যাওয়ার জন্য ‘অযোগ্য’ বলে বিবেচিত হয়।
একটি নিবন্ধনে একাধিকজনও যেতে পারছে। অনেকটা এক টিকিটে দুই ছবি দেখার মতো।
সকাল সাতটায় গাড়িবহর চলতে শুরু করে। কাপলদের রাখা হয়েছে ছাদখোলা গাড়িতে, যাতে তারা যাত্রাপথ ভালোভাবে উপভোগ করতে পারে। কেউ কেউ উপভোগও করছে। স্বামী-স্ত্রী মিলে বাতাস খাচ্ছে। বাতাসে স্ত্রীর মাথার চুল হাওয়ায় উড়ছে। আর বন্ধুদের গ্রুপগুলো জায়গা পেয়েছে ট্রাকে। সেখানেই তারা আনন্দ-ফুর্তি করছে।
বহর যত এগোতে থাকে, মানুষ ও গাড়ির ভিড় বাড়তে থাকে। একটা সময় গাড়ির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। কারও হাতে ক্যামেরা, কারও হাতে প্ল্যাকার্ড।
এত বড় বহর যে রাস্তা দিয়েই যাচ্ছে, সেখানে গাড়ির ধোঁয়ায় কিছুক্ষণের জন্য পরিবেশ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। তবে এ নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জনতার মধ্যে কোনো বিরক্তি বোধ নেই। সবাই বহরে থাকা মানুষদের অভিবাদন জানাচ্ছে। কাপলদের সঙ্গে ছবি তুলছে।
বহর যে এলাকা দিয়ে যাচ্ছে, সেখানকার দর্শনীয় স্থানগুলোয় থামছে। সবাই নেমে ঘোরাঘুরি করছে, ছবি তুলছে, ফেসবুকে স্টোরি দিচ্ছে। আশপাশের দোকানগুলোয় খাবার খাচ্ছে। কেউ কেউ খাবার খাওয়ার পর আবর্জনা যেখানে–সেখানে ফেলছে। এর মধ্যেই একজন বলছে, দেশের পরিবেশ ও পর্যটন নিয়ে নির্বাচিত দলের আরও সচেতন হওয়া উচিত।
তারপর আবার গাড়িতে উঠছে। কিছুদূর গিয়ে আবার কোনো দর্শনীয় স্থানে যাত্রাবিরতি দিচ্ছে। আবার ছবি তোলা, খাওয়াদাওয়া, ফেসবুক আপডেট দেওয়া চলতে থাকে। গন্তব্যে পৌঁছাতে যে সময় লাগার কথা ছিল, তার দ্বিগুণ সময় লাগছে। এ নিয়ে কারও মধ্যে বিরক্তি নেই। নিবন্ধনের মাধ্যমে যেসব কাপল ও বন্ধুদের গ্রুপ এ বহরে জায়গা পেয়েছে, তারা মাঝেমধ্যে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ছবি তুলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিচ্ছে।
জমজমাট লং ড্রাইভ দেখে নির্বাচনে হেরে যাওয়া এ জোটের সমর্থকেরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রশংসাসূচক মন্তব্য লিখছে। কেউ বলছে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের পর্যটনশিল্প ও পরিবেশের ব্যাপক উন্নতি হবে। কেউ বলছে, নতুন নতুন দর্শনীয় স্থানে গাড়ির বহর যাওয়ায় সেখানকার মানুষের আয়ের উৎস বাড়বে। আবার কারও মন্তব্য, এবার জোট সঠিক পথেই আছে।