দুই কার্যদিবস কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। তবে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
এর আগে টানা তিন কার্যদিবস দরপতন হওয়ার পর চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় ও তৃতীয় কার্যদিবসে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। সেই সঙ্গে বাড়ে লেনদেনের গতি। সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে লেনদেন বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও দাম কমেছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের প্রথম তিন ঘণ্টা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে। তবে শেষ এক ঘণ্টার লেনদেনে বাজারে এক প্রকার ঢালাও দরপতন য়। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩৯টির এবং ৩৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১৭টির দাম কমেছে এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫২টির এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭০টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ৬টি মিউচুয়াল ফান্ডর দাম বাড়ার বিপরীতে ২৪টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১০ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৪২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৮১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে আর্গন ডেসিমসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকার। ২৯ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সায়হাম টেক্সটাইল, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ, একমি পেস্টিসাইড, আইটি কনসালট্যান্টস, সায়হাম কটন, ব্র্যাক ব্যাংক এবং ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ ২৬৬ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১২৭টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
এমএএস/এমএএইচ/