
বাবা ফেরি করে মালামাল বিক্রি করেন। সংসারের খরচ জোগাতে বাবার সঙ্গে ফেরি করে মালামাল বিক্রির কাজ করতে হয় ইসমাইল হোসেন নিবিড়কে। তবে সারা দিন পরিশ্রম শেষে নিয়ম করে পড়তে বসে সে। পরিশ্রমের পথ ধরে এসেছে সাফল্যও। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পেয়েছে সে। ভর্তি হয়েছে ফেনী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হতে চায় নিবিড়। পড়তে চায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)।
আজ সোমবার সকালে ফেনী সরকারি কলেজের বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আহমেদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত শিখো-প্রথম আলো জিপিএ–৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজের এ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিবিড়।
মেধাবীদের এই অনুষ্ঠানজুড়েই ছিল বড় স্বপ্ন আর বড় লক্ষ্যের গল্প। সকাল ৯টা থেকেই কৃতী শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে মিলনায়তনে। সাড়ে সাত শ ধারণক্ষমতার মিলনায়তন সকাল ১০টার মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে কৃতী শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে সেলফি কর্নারে সেলফি তোলা ও বন্ধু–সহপাঠীদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। সন্তানদের সঙ্গে এসেছিলেন অভিভাবকেরাও।
মঞ্চে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের শুভেচ্ছা বক্তব্য পাঠ করে শোনান পত্রিকাটির ফেনী জেলা প্রতিনিধি মো. নাজমুল হক। মেধাবী শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি তুলে ধরে বক্তব্য দেয় সুমাইয়া চৌধুরী। ভালো ফলের এই অর্জনকে দেশের কাজে লাগাতে চায় বলে বক্তব্যে জানায় সে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফেনী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা মোশাররফ হোসেন এবং বন্ধুসভার সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাইসা ফারুক। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এনামুল হক খন্দকার। তিনি বলেন, ‘জিপিএ–৫ পাওয়া জীবনের বড় সাফল্য নয়। তোমাদের সুনাগরিক হতে হবে। জীবনকে কাজে লাগাতে হবে। ভালো মানুষ হতে হবে।
বাবা ও মায়েদের উদ্দেশ্যে এনামুল হক খন্দকার বলেন, ‘সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, তা লক্ষ করা আপনাদের দায়িত্ব। আপনারা তাদের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে মোটরসাইকেল, মোবাইল হাতে তুলে দেন। তাদের আর খোঁজখবর নেন না। তারা মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। সন্তানদের প্রতি লক্ষ রাখবেন। তারা এই দেশের সম্পদ।’
কৃতী শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা, মুখস্থ—এই তিন ‘ম’ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান প্রথম আলোর হেড অব রিপোর্টিং টিপু সুলতান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের জয় মানে বাংলাদেশের জয়। আমরা চাই ভবিষ্যতে তোমরা বিজ্ঞান, সাহিত্যে, ভাষায় সমৃদ্ধ হবে। প্রথম আলো সহায়ক হিসেবে পাশে থাকবে তোমাদের। তোমরা প্রথম আলো, বিজ্ঞানচিন্তা, কিশোর আলো নিয়মিত পড়বে। প্রথম আলো চায় তোমরা ভালো শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী হবে না কেবল, ভালো মানুষ আর আলোকিত মানুষও হবে।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বক্তব্য দেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের।
আলোচনা অনুষ্ঠানের পর ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই পর্বে আবৃত্তি করে অদ্রিতা নাগ ও গান করে রাজশ্রী বণিক। এ ছাড়া ঢাকা থেকে আগত শিল্পী অনীক সূত্রধর গানে গানে মাতিয়ে তোলেন মিলনায়তন।

বন্ধুসভায় সাধারণ সম্পাদক দিপংকর রায় চৌধুরীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আনন্দযজ্ঞ শেষ হয়। এর আগে কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী ১০ শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেন অতিথিরা।
এবারের আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় আছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।