মাঠে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো লিওনেল মেসির নিয়মিত রূপ। তবে এবার সবুজ গালিচার সীমানা পেরিয়ে জীবন বাঁচানোর মানবিক লড়াইয়ে বড় এক ‘অ্যাসিস্ট’ করলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের জন্য নিজের দাতব্য সংস্থা ‘মেসি ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে ২.৬ মিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা) অনুদান দিয়েছেন মেসি।
হাসপাতালটি নির্মিত হচ্ছে স্পেনের বার্সেলোনা শহরে, যাকে মেসি সবসময় নিজের ‘দ্বিতীয় ঘর’ বলে বিবেচনা করেন। ২০২১ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে গেলেও ক্যাতালুনিয়ার এই শহরের প্রতি তার ভালোবাসা ও আত্মিক টান যে এখনও অটুট, শিশুদের চিকিৎসায় এই বিশাল অনুদান তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ফুটবল বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘গোলডটকম’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ জন ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। মূলত মারণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুরা যাতে এক ছাদের নিচেই সব ধরণের আধুনিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই দাতব্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
খেলার মাঠের পাশাপাশি বাইরেও দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে ‘মেসি ফাউন্ডেশন’। এর আগেও সংস্থাটি শিশুদের লিউকেমিয়া সংক্রান্ত গবেষণায় অনুদান, মেসির জন্মস্থান আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং আফ্রিকান দেশ মোজাম্বিকে শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণ কর্মসূচিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।