মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকের পরও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মমদানি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্পের সঙ্গে নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনে বৈঠকের পর সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মমদানি বলেন, তার দৃষ্টিতে নেতানিয়াহু একজন ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ‘গণহত্যার স্থপতি’।
মমদানি বলেন, নেতানিয়াহুর বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে সম্মান করা উচিত। গাজা যুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করেছে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিবেচনায় আইন লঙ্ঘনের কারণে গ্রেপ্তারের উপযুক্ত হন, তাহলে কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত নয়। সবার ক্ষেত্রেই জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে মমদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করবেন। তবে সম্প্রতি তিনি স্বীকার করেন, নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঠেকানোর বা তাকে গ্রেপ্তার করার আইনগত ক্ষমতা তার নেই। নেতানিয়াহুর উপস্থিতির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভেও তিনি অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।
আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর।
এদিকে ট্রাম্প ও মমদানির বৈঠকটি বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং নিউইয়র্কে কয়েক বিলিয়ন ডলারের আবাসন প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা। বৈঠকে ট্রাম্প মমদানির প্রশংসা করে বলেন, তিনি আশা করছেন মমদানি একজন ভালো মেয়র হবেন।
মমদানিও নিউইয়র্কের জন্য ট্রাম্পের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বাসে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও শহরের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি ট্রাম্পসহ যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, এএফপি