বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে আর্জেন্টিনার। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে না লিওনেল মেসিকে। বিশ্বকাপের পরপরই আবারও একটি ফাইনাল খেলার সুযোগ পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিয়ামি মুখোমুখি হবে মেক্সিকোর লিগা এমএক্স চ্যাম্পিয়ন ক্রুজ আজুলের। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মাইকেলব আল্ট্রা ক্যাম্পেওনেস কাপ ২০২৬-এর এই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ।
এমএলএস ও লিগা এমএক্স চ্যাম্পিয়নদের লড়াই
ক্যাম্পেওনেস কাপ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএস ও মেক্সিকোর লিগা এমএক্সের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে আয়োজিত এক ম্যাচের ফাইনাল। এবারের আসরটি হবে টুর্নামেন্টটির অষ্টম সংস্করণ।
এখন পর্যন্ত ইতিহাসে লিগা এমএক্সের দলগুলোই বেশি সফল। মেক্সিকান ক্লাবগুলো জিতেছে চারটি শিরোপা, আর এমএলএসের ক্লাবগুলোর জয় করেছে তিনটি ট্রফি। সবশেষ ২০২৫ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তলুকা এফসি।
কিভাবে ফাইনালে উঠল দুই দল?
২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর এমএলএস কাপের ফাইনালে ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইন্টার মিয়ামি। সেই শিরোপা জয়ের সুবাদেই ক্যাম্পেওনেস কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ডেভিড বেকহ্যামের মালিকানাধীন ক্লাবটি।
অন্যদিকে, ক্যাম্পেওন দে ক্যাম্পেওনেস ম্যাচে তলুকাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মেক্সিকান ক্লাব ক্রুজ আজুল।
মেসির সামনে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ
ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালে ক্লাবটিকে ইতিহাসের প্রথম শিরোপা লিগস কাপ জেতান তিনি। এরপর ২০২৪ সালে জেতান এমএলএস সাপোর্টার্স শিল্ড। ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেতান এমএলএস শিরোপা।
এবার ক্যাম্পেওনেস কাপ জিততে পারলে ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে আরেকটি ট্রফি যোগ হবে মেসির সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারে।
বিশ্বকাপ শেষে বর্তমানে বিশ্রামে রয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে ফাইনাল খেলায় অংশ নেওয়ার কারণে সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলও ছুটিতে রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের ফাইনালের আগেই দুজনই পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে দলে ফিরবেন।
১৬ সেপ্টেম্বরের এই ম্যাচটি শুধু দুটি চ্যাম্পিয়ন দলের লড়াইই নয়, এটি হবে নতুন নু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম কোনো শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচও। এমএলএস ও লিগা এমএক্সের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে তাই বাড়তি আকর্ষণ যোগ হয়েছে। আর লিওনেল মেসির জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপের আক্ষেপ ভুলে যাওয়ার পাশাপাশি ইন্টার মিয়ামির হয়ে আরও একটি শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ।
৩৯ বছর বয়সেও ট্রফির ক্ষুধা যে এতটুকু কমেনি, সেটি আরও একবার প্রমাণ করার মঞ্চ পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
আইএইচএস/